
হাফলং (অসম), ২৫ সেপ্টেম্বর ( হি স): ডিমা হাসাও জেলায় নদীখাতে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত খনন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে অল ডিমাসা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এডিএসইউ)-এর ডিমা হাসাও জেলা কমিটি। বিধি লঙ্ঘনকারী খননস্থলগুলিতে অবিলম্বে কাজ বন্ধের নির্দেশ জারি, অনুমতিবিহীন ভারী যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা এবং অভিযুক্ত খনি ও খাদান মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এডিএসইউ কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নামার পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ চেয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালত বা ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের পূর্বাঞ্চলীয় বেঞ্চের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
এডিএসইউ-এর পক্ষ থেকে বন দফতরের কাছে দাখিল করা স্মারকলিপিতে নদীখননের প্রকৃত পরিস্থিতি ও পরিবেশের উপর তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে যৌথ পরিদর্শনের দাবি জানানো হয়েছে। এই পরিদর্শনে বন দফতর, ডিমা হাসাও স্বশাসিত পরিষদের রাজস্ব ও বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং ছাত্র প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
পাশাপাশি, অনুমোদিত খনন পরিকল্পনা, বৈধ লিজ কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া যেসব খনি ও খাদান পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ, সেগুলির মালিক ও পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। নদীর গুরুত্বপূর্ণ বাঁক, সেতু সংলগ্ন এলাকা, ভূমিক্ষয়প্রবণ অঞ্চল এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল নদীখাতগুলিকে খনন নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করারও দাবি তুলেছে ছাত্র সংগঠনটি।
এডিএসইউ-এর বক্তব্য, নদীখাতে অনিয়ন্ত্রিত খননের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার ভূমির স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে অবিলম্বে প্রশাসনিক ও আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
সংগঠনটির হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে প্রশাসনের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ না করা হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নদীখাতে অবৈধ খনন বন্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে এডিএসইউ।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব