
কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : শিল্প ক্ষেত্রে সুরক্ষা ব্যবস্থা এখন আর শুধুমাত্র নিয়ম-কানুন মেনে চলার সাধারণ বিষয় নয়; বরং এটি ব্যবসায়িক প্রয়োজন, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং নৈতিক দায়িত্ব— এই তিন তলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে রয়েছে। কলকাতায় আয়োজিত ২০তম ‘সিআইআই সেফটি সিম্পোজিয়াম ও প্রদর্শনী’ (CII Safety Symposium and Exhibition)-র দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার এই তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা এবং স্কুল শিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রকৃত অগ্রগতি বা উন্নয়নকে কেবল কতগুলি নতুন কারখানা কিংবা অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, তা দিয়ে পরিমাপ করলে ভুল হবে। কত মানুষের জীবনকে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হচ্ছে, সেটিই আধুনিক সার্বিক উন্নয়নের প্রধান ও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।শিল্পে 'শূন্য ক্ষতি' (Zero Harm) অর্জনের লক্ষ্য স্থির করে তিনি জোর দিয়ে জানান, নতুন কোনো প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সরকারি অনুমোদনের প্রথম পর্যায় থেকেই সঠিক নকশার মাধ্যমে অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রধান অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।এই প্রসঙ্গে সিআইআই (পূর্বাঞ্চল) সেফটি সাব-কমিটির চেয়ারম্যান তথা টাটা স্টিলের সেফটি, হেলথ অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব মঙ্গল বলেন, এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেরা রূপরেখা ও নীতিগুলি তুলে ধরা, আধুনিক উন্নত প্রযুক্তি ও সুরক্ষাসামগ্রী প্রদর্শন করা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে (MSME) নিরাপত্তার এই বৃহৎ পরিকাঠামোয় সাফল্যের সাথে যুক্ত করা।সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে প্রথা মেনে বিভিন্ন সংস্থাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘সেফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (SHE) এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস’ প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় সিআইআই সেফটি সিম্পোজিয়াম ও প্রদর্শনীর বিশেষ 'এক্সিবিটর ডিরেক্টরি'।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত