ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রাচীন বিজ্ঞানের ওপর ভর করেই ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হবে: রাজ্যপাল
মুম্বই, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রাচীন বিজ্ঞানের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভারত আগামী দিনে ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মা। রবিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এর জন্য ভারত
ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রাচীন বিজ্ঞানের ওপর ভর করেই ভারত ‘বিশ্বগুরু’ হবে: রাজ্যপাল


মুম্বই, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : ভারতীয় সংস্কৃতি ও প্রাচীন বিজ্ঞানের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভারত আগামী দিনে ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য করলেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মা। রবিবার মুম্বইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, এর জন্য ভারতের প্রাচীন জ্ঞান ঐতিহ্য এবং আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার মধ্যে নিয়মিত মেলবন্ধন ও পারস্পরিক সংলাপ অত্যন্ত জরুরি।

রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মা এদিন মুম্বইয়ের 'গানসাম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর নাট্যগৃহ'-এ ‘বিজ্ঞান দর্শন রিসার্চ অর্গানাইজেশন’ (ভিডিআরও) আয়োজিত জাতীয় সম্মেলন ‘বৈদিক ভারত যুব বিচারক সংবাদ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন। এই সম্মেলনে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ এবং তরুণ গবেষকরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে আইআইটি বোম্বের গবেষক, ইসরোর প্রাক্তন অধিকর্তা ড. চন্দ্রকান্ত রবিকান্ত এবং ভিডিআরও-র অধিকর্তা মোহিত গোর প্রধান অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

রাজ্যপাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভারত প্রাচীনকাল থেকেই জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পীঠস্থান। আমাদের বেদ, উপনিষদ এবং ঋষি-মুনিদের গবেষণা কেবল ধর্মীয় গ্রন্থেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সেগুলিতে তখনকার দিনের উচ্চমানের জ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক ভাবনার স্পষ্ট প্রতিফলন পাওয়া যায়। ‘প্রজেক্ট বিজ্ঞান দর্শন’ প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানধারাকে আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সাথে তিনি তরুণ গবেষকদের পদার্থবিদ্যা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আয়ুর্বেদ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানকে যুক্তিযুক্ত ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে অধ্যায়ন করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য কেবল মেশিন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মধ্যেই সীমিত থাকা উচিত নয়, বরং তার মূল প্রয়োগ হওয়া উচিত মানবকল্যাণ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে। প্রকৃতির নিয়মের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপন করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব, আর এটিই বৈদিক বিজ্ঞানের মূল চেতনা। আইআইটি বোম্বে এবং ইসরোর এই যৌথ উদ্যোগ তরুণদের প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান সম্পর্কে গবেষণা করতে উৎসাহিত করবে এবং ভারতীয় জ্ঞান ঐতিহ্যকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বুঝতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে ভিডিআরও-র অধিকর্তা তথা তরুণ গবেষক মোহিত গোর কোয়ান্টাম ফিজিক্স এবং বেদের মধ্যে গভীর সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি তরুণ সমাজকে অন্ধবিশ্বাস থেকে দূরে থেকে সনাতন ধর্ম ও ভারতীয় জ্ঞান ঐতিহ্যকে বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিনিষ্ঠ দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার আহ্বান জানান।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande