
কলকাতা, ২৭ সেপ্টেম্বর (হি.স.) :
বিশ্ব জয়ের জন্য নয়, বরং বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব এবং মানবতার সেবার জন্যই ভারতের উত্থান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে। রবিবার কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের (ন্যাশনাল লাইব্রেরি) ভাষা ভবনে 'রাম-শরদ কোঠারী স্মৃতি সংঘ, কলকাতা'-র উদ্যোগে আয়োজিত রাম-শরদ কোঠারী প্রতিভা সম্মান - ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে আরএসএস সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বক্তা হিসেবে দত্তাত্রেয় হোসবলে বলেন, ভারত বিশ্বমঞ্চে এক বৈভবশালী ও সামর্থ্যবান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠুক এবং সমগ্র বিশ্বের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করুক, এর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একসাথে মিলেমিশে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি বলেন, আমরা শান্তি ও সৌহার্দ্যের জন্য বাঁচি। ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং সাংস্কৃতিক গৌরব যেন অক্ষুণ্ণ থাকে, তার জন্য প্রতিটি নাগরিককে শপথ নিয়ে কাজ করতে হবে। দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে তিনি তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে 'জেন জি' প্রজন্মকে জাতি গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৯৯০ সালের অযোধ্যা শ্রীরাম জন্মভূমি আন্দোলনে সর্বোচ্চ বলিদান দেওয়া রাম ও শরদ কোঠারীকে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, যে বয়সে তরুণরা তাঁদের কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবন নিয়ে ভাবেন, সেই বয়সে কোঠারী ভ্রাতৃদ্বয় ধর্ম ও দেশের জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সনাতনী ও জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসারে জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। রাজ্যের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের সময়ে বাংলায় ব্যাপক জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন ঘটেছে, যা সংশোধনের জন্য এখনও অনেক কাজ করা প্রয়োজন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলায় এখন আর সাধুসন্তদের অপমান কোনো মূল্যেই সহ্য করা হবে না।
এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় একটি রাস্তার নাম কোঠারী ভ্রাতৃদ্বয়ের নামে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে তাঁদের নামে সম্মান প্রদান চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও তরুণ শিল্পপতি ললিত বেরিওয়াল। সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলার কণে কণে সনাতন চেতনা জড়িয়ে রয়েছে এবং এখন সমগ্র রাজ্যে সনাতনের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে।
সংস্থার মিডিয়া ইনচার্জ ভাগীরথ সারস্বত জানান, এ বছর শিক্ষা, পরিবেশ ও গো-সেবার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের সম্মানিত করা হয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের শ্রী ঈশ্বর চন্দ্র হেমব্রম, গো-সেবার জন্য ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়ার ধ্যান ফাউন্ডেশন এবং পরিবেশ ও বন সংরক্ষণের জন্য ওড়িশার কেওনঝড়ের রমেশ চন্দ্র মিশ্রকে 'রাম-শরদ কোঠারী প্রতিভা সম্মান'-এ ভূষিত করা হয়।
ভারত মাতা এবং শহীদ রাম-শরদ কোঠারীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সঙ্ঘের সচিব রজত চতুর্বেদী স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এই উপলক্ষে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে শিল্পপতি অংশুল চামারিয়া ও সৌরভ দুগড় এবং সংস্থার সভাপতি রাজেশ আগরওয়াল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন সঞ্জয় মণ্ডল এবং কোঠারী ভ্রাতৃদ্বয়ের বোন পূর্ণিমা কোঠারী উপস্থিত সকল অতিথিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন পঙ্কজ চৌধুরী দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
এই আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে আরএসএস-এর জ্যেষ্ঠ পদাধিকারী রামলাল, জলধর দা, সুনীল পদ গোস্বামী, অজয় নন্দী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা, প্রাক্তন উপ-মেয়র মীনাদেবী পুরোহিত সহ মহানগরের বহু গণ্যমান্য নাগরিক ও কার্যকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি