রাবার মিশনের সাফল্যে ত্রিপুরার জনজাতি কল্যাণ দফতর পেল স্কচ এওয়ার্ড সিলভার
আগরতলা, ২৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দফতর মর্যাদাপূর্ণ স্কচ এওয়ার্ড সিলভার সম্মানে ভূষিত হয়েছে। জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা ও আয়ের স
ত্রিপুরা সরকার


আগরতলা, ২৯ সেপ্টেম্বর (হি.স.) : মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিপুরা সরকারের জনজাতি কল্যাণ দফতর মর্যাদাপূর্ণ স্কচ এওয়ার্ড সিলভার সম্মানে ভূষিত হয়েছে। জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা ও আয়ের সুযোগ সৃষ্টি এবং রাবারভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া এই প্রকল্পের অগ্রগতিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনজাতি কল্যাণ দফতরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের ১৪ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন প্রকল্পের সূচনা হয়। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল রাবার চাষের মাধ্যমে বিশেষ করে জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা ও আয়ের সুযোগ তৈরি করা। শুধু রাবার চাষের পরিধি বাড়ানোই নয়, চাষিদের প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাবার প্রক্রিয়াকরণ এবং মূল্য সংযোজনের ওপরও প্রকল্পের আওতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের শুরুতে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে রাবার চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রকল্পের প্রতি ব্যাপক সাড়া এবং চাষিদের আগ্রহের কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ৬৯ হাজার হেক্টর করা হয়। দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৬৯,৯৪৪.৪৫ হেক্টর জমি রাবার চাষের আওতায় এসেছে। এর ফলে এখনও পর্যন্ত ৮৯,৮৯৫ জন সুবিধাভোগী প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।

রাবার চাষের পাশাপাশি উৎপাদিত রাবারের গুণমান বৃদ্ধি এবং বাজারমূল্য বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ৪৬টি বৃহৎ স্মোক হাউস এবং ২৫টি সুসংহত রাবার প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাবার শিটের গুণমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত রাবরে মূল্য সংযোজন এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ আরও বাড়বে বলে দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী রাবার মিশন প্রকল্পকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একাধিক সরকারি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জনজাতি কল্যাণ দফতরের সঙ্গে নাবার্ড, রাবার বোর্ড, আত্মা, এমজিএনরেগা, টিএফডিপিসি লিমিটেড, টিআরপিসি লিমিটেড, টিআরপিএন্ডপিটিজি এবং টিটিএএডিসি-সহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

দফতরের বক্তব্য, রাবার চাষকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের আর্থিক স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। চাষের সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় রাবারভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিধিও ধীরে ধীরে বাড়ছে।

স্কচ এওয়ার্ড সিলভার সম্মাননা প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এবং এর মাধ্যমে জনজাতি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সৃষ্টির উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি বলে মনে করছে জনজাতি কল্যাণ দফতর। দফতরের মতে, রাবার চাষের সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় ও আর্থিক স্বনির্ভরতার সুযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাবার প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারিত হলে এই খাতের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়বে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande