১৭তম ট্রাইবাল ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের সূচনা কলকাতায়
কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি (হি. স.) : ছত্তিশগড় থেকে ওড়িশা— ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নকশাল প্রভাবিত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজাতি যুবক-যুবতীদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি থেকে তিলোত্তমায় শুরু হচ্ছ
বেলগাছিয়াতে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা


কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি (হি. স.) : ছত্তিশগড় থেকে ওড়িশা— ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের নকশাল প্রভাবিত অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া উপজাতি যুবক-যুবতীদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি থেকে তিলোত্তমায় শুরু হচ্ছে ১৭তম ট্রাইবাল ইউথ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম । ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা সাতদিন কলকাতার বেলগাছিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চলবে এই আবাসিক কর্মসূচি।

অস্ত্র ছেড়ে যাতে উন্নয়নের পথে পা বাড়ায় তরুণ প্রজন্ম, সেই উদ্দেশ্যেই ভারত সরকারের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের অধীনে ‘মেরা যুব ভারত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘মেরা যুব ভারত কলকাতা উত্তর’ এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এতে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াড়া ও কাঙ্কের, মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলি, ওড়িশার মালকানগিরি ও কন্ধমাল, ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম এবং মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট থেকে মোট ২০০ জন উপজাতি যুবক-যুবতী এতে যোগ দিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে থাকছেন বিএসএফ , সিআরপিএফ এবং আইটিবিপি -র ২০ জন অভিজ্ঞ এসকর্ট অফিসার।

সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকর্তা অধ্যাপক শুভাশিস বটব্যাল এবং অন্যান্য আধিকারিকরা।

এদিন অধ্যাপক বটব্যাল জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যুব ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীদের আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাণিপালন, মৎস্যচাষ এবং দুগ্ধ প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তাঁরা স্বনির্ভর হতে পারেন।

কলকাতা ভ্রমণের অংশ হিসেবে তাঁদের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, বেলুড় মঠ, সায়েন্স সিটি এবং বিবেকানন্দ হাউস ঘুরিয়ে দেখানো হবে।

জেলা যুব আধিকারিক প্রিয়াঙ্কা ঘোষ জানান, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে।

২০৪৭-এর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য

ডেপুটি ডিরেক্টর ড. কেশব চন্দ্র ধারা জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়তে গেলে বিভ্রান্ত যুবসমাজকে মূলস্রোতে ফেরানো জরুরি। ধারাবাহিক কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকলে তাঁদের হিংসার পথ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

এই সাতদিনের কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা যখন নিজেদের রাজ্যে ফিরে যাবেন, তখন তাঁদের সঙ্গে থাকবে সংহতি, প্রগতি এবং দেশপ্রেমের এক নতুন বার্তা। কলকাতার এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি বিনিময় কর্মসূচি নয়, বরং প্রান্তিক জনপদের যুবকদের ‘জাতি গঠনের কারিগর’ হিসেবে গড়ে তোলার এক শক্তিশালী পদক্ষেপ।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande