চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র আর জি কর হাসপাতাল চত্বর
কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি (হি. স.) : আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফের চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে তুলকালাম। এক বৃদ্ধা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাসপাতাল চত্বর। মৃতার নাম জৈবুন নিসা (৬৫), তিনি উত্তর কলকাতার বেলগাছ
চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র আর জি কর হাসপাতাল চত্বর


কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি (হি. স.) : আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফের চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে তুলকালাম। এক বৃদ্ধা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় হাসপাতাল চত্বর। মৃতার নাম জৈবুন নিসা (৬৫), তিনি উত্তর কলকাতার বেলগাছিয়ার বাসিন্দা ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৮টা নাগাদ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে জৈবুন নিসাকে আর.জি. কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তির পর দীর্ঘক্ষণ কেটে গেলেও কোনো চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করতে আসেননি।

মৃতার আত্মীয় শামীম আখতার জানান, সেই সময় ট্রমা ইউনিটে মাত্র একজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তিনি রোগীকে দেখতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ যে, রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক হওয়া সত্ত্বেও প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট কোনো চিকিৎসা শুরু হয়নি। এরপর বেশ কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার এসে চিকিৎসা শুরু করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাতেই মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধার।

আর.জি. করের অবস্থা শোচনীয়। এখানে পুলিশি নিরাপত্তা থাকলেও রোগীদের পরিষেবার বালাই নেই। চরম অরাজকতা চলছে হাসপাতালের ভেতরে, ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন শামীম আখতার।

রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ট্রমা কেয়ার ইউনিটের সামনে ধর্নায় বসেন তাঁরা। পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও সিআরপিএফ । দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় বুধবার ভোরের দিকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট ২০২৪-এ এই হাসপাতালেই এক মহিলা পিজি ট্রেনি ডাক্তারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। সেই ঘটনার ক্ষত এখনো টাটকা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই চিকিৎসার গাফিলতির এই নতুন অভিযোগ হাসপাতালের পরিষেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে মৃতার পরিবার এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande