
আগরতলা, ১৪ জানুয়ারি (হি.স.) : আগামী বছর আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা নিয়ে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত আগরতলা বইমেলার পর্দা নামল বুধবার সন্ধ্যায়। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর উদার মানসিকতায় বইমেলার আয়োজন নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। বই হল জ্ঞানের ভাণ্ডার—বইয়ের সমতুল্য কিছুই হতে পারে না।
তিনি বলেন, আগামী দিনে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি করে বইমেলার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে নতুন প্রজন্ম উপকৃত হবে। জেলাভিত্তিক বইমেলার আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। আগরতলা শহরের বিস্তার ও আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁপানিয়া মেলা প্রাঙ্গণে বইমেলা আয়োজন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বইপ্রেমীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
সম্মানিত অতিথি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, বই সমাজকে পথ দেখায় এবং ছাত্রছাত্রীদের জন্য জ্ঞানের দরজা খুলে দেয়। বইমেলা লেখকদের সৃষ্টির অনুপ্রেরণা ও প্রকাশকদের প্রকাশের মঞ্চ। আগরতলা বইমেলা ইতিমধ্যেই দেশের অন্যতম বইমেলার মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। তিনি জানান, এবছর বইমেলার মূল ভাবনা ছিল ‘বন্দে মাতরম’, যার অর্থ ঐক্য, ভবিষ্যৎ ও দেশপ্রেম—জাতির আত্মপরিচয়ের ঘোষণা।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ডঃ পি.কে. চক্রবর্তী জানান, এবছর বইমেলায় ১৮৩টি স্টল ছিল। গতকাল পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকার বিক্রিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, শুধু গতকালই ১২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৫০৬ টাকার বই বিক্রি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক ডাঃ অশোক সিনহা, ডাঃ অতুল দেববর্মা, ত্রিপুরা পাবলিসার্স গিল্ডের সম্পাদক অজিত দেববর্মা, অল ত্রিপুরা বুক সেলার্স অ্যান্ড পাবলিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী ও রাখাল মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন রাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত চক্রবর্তী। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মণিকা দাস দত্ত, ডুকলি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান ভুলন সাহা এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ