
কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি (হি. স. ) : আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সংস্থার দফতরে ইডি'র তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে নবান্নের সামনে ধর্না দিতে চান বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ তাঁর এই আবেদনের মামলায় বুধবার কোনও নির্দেশ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট ৷
নবান্ন বাসস্ট্যান্ড অথবা মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে এই ধর্নায় অনুমতি দেবে আদালত, জানিয়েছেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ ৷ এই দু'টি জায়গার মধ্যে একটি জায়গা বেছে নিয়ে আদালতকে জানাতে হবে ৷ তারপর আগামিকাল সকালে লিখিত নির্দেশ দেবেন বিচারপতি ৷
আগামী শুক্রবার ১৫-১৬ জন বিধায়ককে নিয়ে নবান্নের সামনে ধর্না কর্মসূচি করতে চান বিরোধী দলনেতা ৷ এদিনের শুনানিতে বিরোধী দলনেতার আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ১৫-১৬ জন বিধায়ককে নিয়ে নবান্নের সামনে ধর্না কর্মসূচি করতে চান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ ৯ জানুয়ারি রাজ্যের শাসকদলকে যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ কলকাতায় বৃহৎ মিছিলের অনুমতি দিতে পারে পুলিশ, তাহলে এই ১৫ জনের ধর্নাতে বাধা দিতে পারে না৷
সম্প্রতি এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়া হলে, পুলিশ জানায় নবান্নের সামনে জায়গা ছোট অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় ৷ নবান্নের পরিবর্তে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডের সামনে ধর্না কর্মসূচি করা যায় ৷ পাশাপাশি নবান্নের সামনে বিএনএস ১৬৩ জারি থাকে ৷
আইনজীবী আরও জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, ধর্না যে কোনও নাগরিকের মৌলিক অধিকার৷ সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না৷ ২০২৩ সালে রাজভবনের সামনে শাসক দলকে টানা পাঁচদিন ধর্না করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু বিরোধী দলনেতাকে সিআরপিসি ১৪৪ ধারার অজুহাতে পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি ৷
পরে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হলে আদালত সেই অনুমতি দেয় ৷ ফলে নবান্নের সামনে বিএনএস ১৬৩ ধারা লাগু একটা অজুহাত৷ পুলিশ আইন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ/বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে৷ কিন্তু ধর্না বা র্যালি বন্ধ করতে পারে না৷
এর পর রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ: নবান্ন বাসট্যান্ডের সামনে অথবা মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডের মধ্যে কোনও একটি জায়গা বেছে নিন ৷ কোন জায়গায় করতে চান, তা আদালতকে জানাতে হবে ৷ আগামিকাল সকালে নির্দেশ দেবে আদালত৷
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত