‘ভিবি-জি রাম জি’ আইন নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ বিজেপি-এর
আমবাসা (ত্রিপুরা), ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এমজিএনরেগা-এর নাম পরিবর্তন করে ‘ভিবি-জি রাম জি'' আইন প্রণয়নকে ঘিরে বিরোধীদের অপপ্রচারের অভিযোগ তুলল বিজেপি। এই ইস্যুতে সোমবার আমবাসাস্থিত বিজেপি ধলাই জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্ম
বিজেপির সাংবাদিক সম্মেলন


আমবাসা (ত্রিপুরা), ১৯ জানুয়ারি (হি.স.) : কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে এমজিএনরেগা-এর নাম পরিবর্তন করে ‘ভিবি-জি রাম জি' আইন প্রণয়নকে ঘিরে বিরোধীদের অপপ্রচারের অভিযোগ তুলল বিজেপি। এই ইস্যুতে সোমবার আমবাসাস্থিত বিজেপি ধলাই জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ বিজেপি-এর সম্পাদক তাপস মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি ধলাই জেলা সভাপতি পতিরাম ত্রিপুরা, জেলা সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোপাল সূত্রধর ও আশীষ ভট্টাচার্য।

সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাপস মজুমদার বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই বিরোধী দলগুলি নতুন আইন নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি জানান, দেশের স্বাধীনতার পর থেকে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত আইন ও প্রকল্পের নাম একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে নাম বদলালেও মূল লক্ষ্য সবসময়ই ছিল গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৭১ সালে আরএমপি আইন পরিবর্তিত হয়ে সিএসআরই প্রকল্প হয়। ১৯৮০ সালে তা রূপ নেয় ন্যাশনাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রাম (এনআরইপি)-এ। ১৯৮৯ সালে গঠিত হয় রুরাল ল্যান্ডলেস এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি প্রোগ্রাম (আরএলইজিপি)। ১৯৯৩ সালে এর নাম পরিবর্তন করে করা হয় এমপ্লয়মেন্ট ইন্স্যুরেন্স স্কিম (ইএএস)। ২০০১ সালে চালু হয় ফুড ফর ওয়ার্ক প্রোগ্রাম এবং একই বছরে তা পরিবর্তিত হয়ে সম্পূর্ণ গ্রামীণ রোজগার যোজনায় রূপ নেয়। ২০০৫ সালে এই প্রকল্প নতুনভাবে এমজিএনরেগা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রায় ২০ বছর পর, ২০২৫ সালে এমজিএনরেগা পরিবর্তন করে ‘ভিবি-জি রাম জি’ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন আইনে গ্রামীণ মানোন্নয়নের চারটি মূল বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামীণ স্থায়ী সম্পদ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কাজ।

তাপস মজুমদার জানান, নতুন আইনে জব কার্ডধারীরা বছরে ১২৫ দিন কাজ পাবেন, যেখানে আগে ১০০ দিন কাজের সুযোগ ছিল। এর ফলে গ্রামীণ শ্রমিকদের আয় প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে কাজ না দিলে শ্রমিকদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা আগে এমজিএনরেগায় ছিল না।

তিনি বিরোধীদের তোলা কেন্দ্র ও রাজ্যের অর্থের অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনে ত্রিপুরার ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্রীয় সরকার এবং মাত্র ১০ শতাংশ অর্থ রাজ্য সরকার বহন করবে। এছাড়াও রেগা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলনে তাপস মজুমদার অভিযোগ করেন, এসব ইতিবাচক দিক আড়াল করেই বিরোধীরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande