
বারুইপুর, ২ জানুয়ারি (হি. স.) : বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর লক্ষ্যে জেলাজুড়ে প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার বারুইপুরের সাগর সংঘ মাঠে রণসংকল্প সভা থেকে শুরু হল সেই প্রচার । র্যাম্পে হেঁটে ২০২৬-এর ভোটের প্রচার শুরু করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন অভিষেকের সভায় হাজির ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার দলীয় নেতৃত্ব। ছিলেন যাদবপুরের সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ।
এদিন সভা থেকে কার্যত হুংকার দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছি, ২০২১-এর চেয়ে তৃণমূলের ভোট ২০২৬-এ বাড়বে। একটা হলেও আসন বাড়বে। আপনারা কথা দিন, সেই একটা আসন যেন এই জেলা থেকে হয়। ভাঙড়ও এবার আমাদের জিততে হবে। যত পরিশ্রম দরকার, করতে হবে। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে লড়তে হবে। আপনারা যেখানে বলবেন, আমি যাব।’
এরই সঙ্গে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করার জন্য দক্ষিণ ২৪ পরগনাকে কেন বেছে নেওয়া হয়েছে? সে প্রসঙ্গে অভিষেকের বক্তব্য, ‘আমরা কোনও শুভ কাজে গেলে, বড় কাজে গেলে মা-বাবার আশীর্বাদ নিতে হয়। কালীঘাট আমার জন্মভূমি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা আমার কর্মভূমি। এই মাটিতে যেন আমার মৃত্যু হয়। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে তাই আমি লড়াই শুরু করলাম।’
বিজেপি শাসিত সরকারগুলিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”যদি কেউ বাংলার মতো মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিতে পারেন নিঃশর্তভাবে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন।”
এদিন র্যাম্পে তিনজনকে ডেকে নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের মধ্যে দুই ব্যক্তি – মনিরুল ইসলাম মোল্লা, হরেকৃষ্ণ এবং এক মহিলা। অভিষেক জানালেন, ”প্রথম দু’জন মেটিয়াবুরুজের, মহিলা কাকদ্বীপের। এঁদের তিনজনকেই নির্বাচন কমিশন মৃত বলে ঘোষণা করেছেন। অথচ দেখুন, এবার সবাই বেঁচেবর্তে রয়েছেন। তাহলে কমিশনের হিসেব অনুযায়ী, এঁরা সবাই ভূত! আমি তাই এই ‘ভূত’দের ডেকে হাঁটালাম।”
মধ্যপ্রদেশে বিষাক্ত জলে মানুষের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে বিজেপিকে তোপ দাগেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, ”বিশুদ্ধ পানীয় জল দিতে পারে না। আর ১০০ দিনের কাজ বন্ধ করে বাংলার মানুষকে ভাতে মারতে চাইছে।”
ব্রিগেডে গীতাপাঠ অনুষ্ঠান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, ”কেউ গীতার একটা শ্লোকও বলতে পারবে না।” গীতার পঞ্চম অধ্যায়ের শ্লোক উল্লেখ করে বলেন, ”সত্যি যদি গীতা পড়ে থাকে কেউ, তাহলে চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধর করতেন না। কে কী খাবে, কে কী চিকেন প্যাটিস খাবে, কে মাছ খাবে, কে রোল খাবে, সব কি দিল্লির বাবারা ঠিক করবে?” এদিন জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, ”একুশের চেয়ে ভোট শতাংশ এবং আসন সংখ্যা বাড়াতে হবে।” নাম না করে ভাঙড় অর্থাৎ নওশাদের গড় জেতার কথা বললেন অভিষেক।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি