
কলকাতা, ২ জানুয়ারি (হি. স.) : সোশ্যাল মিডিয়ায় তারকাদের লাগাতার হেনস্থার প্রতিবাদে শুক্রবার লালবাজার সাইবার সেলের দ্বারস্থ হয়েছেন টলিপাড়ার পরিচালক-প্রযোজকরা।
এদিন অপরাধদমন শাখার দফতরে হাজির হয়েছিলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, স্ক্রিনিং কমিটির সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত-সহ শ্রীকান্ত মোহতা, রানা সরকার, যিশু সেনগুপ্ত, আবির চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জিনিয়া সেন, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত-সহ টলিউডের একাধিক ব্যক্তিত্ব। নগরপালের কাছে সকলের সই সংগ্রহ করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
এপ্রসঙ্গে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানালেন, “আমরা সবাই আজ নগরপালের কাছে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ-সহ ডেপুটেশন দিলাম। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের থেকে আমরা সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে যে বা যারাই অপরাধী হোক, কঠোরতম শাস্তি পাবে।” উল্লেখ্য, দিন কয়েক ধরেই সিনেমার রেটিং কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগে সরগরম ছিল টলিপাড়া। উপরন্তু গত পুজোর সময়েও এক তারকার অনুরাগীমহলের লাগাতার আক্রমণ বা ট্রোলিংয়ের মুখে পড়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জিনিয়া সেন। সম্প্রতি স্ক্রিনিং কমিটির বৈঠকেও সেপ্রসঙ্গ উত্থাপন হয়। সেখানেই জানানো হয়, লাগাতার এই ট্রোলিং, হুমকি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এবার আইনি পথে হাঁটা হবে।
শুক্রবার নগরপালের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কমিটির অভিযোগ, “কোনও সিনেমা মুক্তির সময়ে বা প্রচারের সময়ে পরিকল্পিতভাবে কখনও পরিচালক-প্রযোজক আবার কখনও শিল্পী ও তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিগতজীবনের উপর আঘাত হানা হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়। এই ধরনের ভাষা ও আক্রমণের মাত্রা এতটাই অশালীন ও অবমাননাকর যে তা শুধুমাত্র টলিউডের জন্য লজ্জাজনক নয়। বরং সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে। ফলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানহানি হচ্ছে। এমনকী তাঁদের জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধের প্রতিরোধ করার আবেদন জানাচ্ছি।” অন্যদিকে সিনেমা হলের সামনে হুজ্জুতি করার অভিযোগ এনেছেন নবীন চৌখানি। সিনেমার রেটিং নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন রানা সরকার। এইধরনের অভিযোগ প্রসঙ্গে বারবার দেবের নাম উঠে এসেছে। এপ্রসঙ্গে বৈঠক শেষে বেরিয়ে স্বরূপ বিশ্বাস এও বলেন যে, “ইন্ডাস্ট্রি বনাম দেব, বিষয়টা এমন নয়। ইন্ডাস্ট্রি একজোট হয়ে পুলিশ কমিশনারকে অভিযোগ জানাল। বারবার একটি নাম উঠে আসছে কেন? যে কোনও শিল্পীদের ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কিংবা ডেথ থ্রেট করা থেকে সাবধান হতে হবে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি