ঝাড়গ্রামে সাঁওতালি মাধ্যম হাই স্কুলে নেই কোনও পড়ুয়া, পরিদর্শনে জেলা পরিষদের সভাধিপতি
ঝাড়গ্রাম, ২ জানুয়ারি (হি.স.): ছাত্রছাত্রী তালিকাভুক্ত থাকলেও কার্যত পড়ুয়াশূন্য অবস্থায় চলছে ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি এলাকার একটি সাঁওতালি মাধ্যম বিদ্যালয়। বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির অধীন কোদপুরা সাঁওতালি মাধ্যম হাই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ
ঝাড়গ্রামে সাঁওতালি মাধ্যম হাই স্কুলে নেই কোনও পড়ুয়া, পরিদর্শনে জেলা পরিষদের সভাধিপতি


ঝাড়গ্রাম, ২ জানুয়ারি (হি.স.): ছাত্রছাত্রী তালিকাভুক্ত থাকলেও কার্যত পড়ুয়াশূন্য অবস্থায় চলছে ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি এলাকার একটি সাঁওতালি মাধ্যম বিদ্যালয়। বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির অধীন কোদপুরা সাঁওতালি মাধ্যম হাই স্কুলে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু থাকলেও শুক্রবার ‘বুক ডে’-তেও কোনও পড়ুয়ার দেখা মেলেনি।

বিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতির খবর পেয়ে শুক্রবার স্কুলটি পরিদর্শন করেন ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডী। বিদ্যালয় ঘুরে দেখে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেন এবং পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই স্কুলটি আগে বাংলা মাধ্যম ছিল। ২০১৯ সালে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সাঁওতালি মাধ্যমে রূপান্তর করা হয়। পড়ুয়াদের জন্য ছাত্রাবাসের ব্যবস্থাও রয়েছে। এক সময় এই স্কুলে স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন গ্রামের পড়ুয়ারাও পড়াশোনা করত। তবে লকডাউনের পর থেকে ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়ারা আর ফিরে আসেনি। ফলে ছাত্রাবাসও খালি হয়ে যায়। অন্যদিকে, স্থানীয় পড়ুয়ারা কাছের বেলপাহাড়ি এসসি হাই স্কুল (সাঁওতালি মাধ্যম)-এ পড়তেই বেশি আগ্রহী হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে ছাত্রসংখ্যা শূন্যে নেমে এসেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পোর্টালে এখনও প্রায় ২০–২২ জন পড়ুয়ার নাম নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে কেউই স্কুলে আসে না। বর্তমানে বিদ্যালয়ে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, একজন বড়বাবু (ক্লার্ক) এবং প্রাথমিক স্তরের তিনজন প্যারা টিচার কর্মরত রয়েছেন। শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে এলেও পড়ুয়ার অনুপস্থিতিতে পাঠদান কার্যত বন্ধ।

দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়া না থাকায় শ্রেণিকক্ষ, টেবিল-চেয়ার ও ডেস্কে ধুলো জমেছে। স্কুল চত্বর আগাছায় ভরে উঠেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রামবন্ধু রায় বলেন, “বর্তমানে পোর্টালে কিছু পড়ুয়ার নাম থাকলেও তারা কেউ স্কুলে আসে না। অনেকেই টিসি নিয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে। বুক ডে-তেও কোনও পড়ুয়া উপস্থিত ছিল না। ডেপুটেশনে থাকা তিনজন প্যারা টিচার প্রাথমিক স্তরের হওয়ায় উচ্চ শ্রেণির পাঠদান সম্ভব হয় না, এটাও একটি বড় সমস্যা।”

এ প্রসঙ্গে জেলা পরিষদের সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডী বলেন, “কোদপুরা স্কুলে গিয়ে দেখেছি সেখানে কোনও ছাত্র নেই। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। কীভাবে আবার পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নেব।”

পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেলপাহাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ সিং সর্দার। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়া না থাকলেও এখানে সরকারের পরিকাঠামো রয়েছে। বিষয়টি শিক্ষা দফতরকে জানানো হবে। স্কুলটিকে কীভাবে নতুন করে ব্যবহার করা যায়, তা জেলা পরিষদের শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য স্থায়ী সমিতিতে আলোচনা করা হবে।”

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande