
বাঁকুড়া, ০২ জানুয়ারি (হি.স.): নিজের মেয়েকে ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করে দেহ বস্তায় ভরে জঙ্গলের ভিতরের একটি কুয়োয় ফেলে দেওয়ার অভিযোগে বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার অভিযুক্ত ঈশান মালকে বাঁকুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনাটি বাঁকুড়া সদর থানার শ্যামপুর গ্রামে ঘটেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা ভবানী মাল (২২) বছর দুয়েক আগে বিকনা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। শ্যামপুর গ্রামে বাবার বাড়ির দুটি ঘরের একটি দখল করে একাই বসবাস করছিলেন ভবানী। অন্য ঘরে অভিযুক্ত বাবা ঈশান মাল তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। এই ঘর দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল।
পুলিশ ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভবানীকে বারবার শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যেতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। অবশেষে ঘর খালি করানোর জন্য অভিযুক্ত বাবা চরম সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগ, ইট দিয়ে মেয়েকে থেঁতলে খুন করে দেহ বস্তায় ভরে ওন্দা থানার দিগশুলি জঙ্গলের ভিতরের একটি কুয়োয় ফেলে দেন তিনি।
গত ১৪ ডিসেম্বর থেকে ভবানী নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ১৩ দিন পর তাঁর বাবা নিজেই বাঁকুড়া সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরই মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর দিগশুলি জঙ্গলে কাঠ কুড়াতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কুয়ো থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ কুয়ো থেকে বস্তাবন্দি পচাগলা দেহ উদ্ধার করে, যা পরে ভবানী মালের বলে শনাক্ত হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বাবার ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিযুক্ত ঈশান মাল খুনের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত দাবি করেছে, এই ঘটনায় তাকে কেউ প্ররোচনা দেয়নি। ওন্দা থানায় খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট