
আগরতলা, ২ জানুয়ারি (হি.স.) : সর্বভারতীয় অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেস (এআইইউডব্লিউসি)-এর দেশব্যাপী আন্দোলনের অংশ হিসেবে শুক্রবার রাজধানী আগরতলায় ত্রিপুরা প্রদেশ অসংগঠিত শ্রমিক কংগ্রেস প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন প্রণীত বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫—সংক্ষেপে ভিবি-জি রাম জি—এর বিরোধীতায় এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক কংগ্রেসের অভিযোগ, নতুন আইনটি মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (এমজিএনআরইজিএ)-কে কার্যত বাতিল করে দিয়েছে এবং জাতির পিতার নামে চালু হওয়া প্রধান গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলা হয়েছে। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, “মহাত্মা গান্ধীর প্রতি অপমান” এবং শ্রমিক স্বার্থের উপর বড় আঘাত।
শ্রমিক কংগ্রেস নেতারা সাংবাদিকদের জানান, এমজিএনআরইজিএ ছিল অধিকারের ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা প্রদানকারী আইন। কিন্তু নতুন আইন কর্মসূচিকে কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত একটি মিশনে পরিণত করে এটিকে বিবেচনামূলক কল্যাণমূলক প্রকল্পে রূপান্তরিত করেছে, যা মূল ঐতিহ্য ও উদ্দেশ্যকে ক্ষুন্ন করছে।
নেতারা আরও দাবি করেন, ভিবি-জি রাম জি আইনে রাজ্যগুলির উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হয়েছে। যেখানে এমজিএনআরইজিএ-তে কেন্দ্র মজুরি ব্যয়ের ১০০ শতাংশ এবং উপকরণ ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ বহন করত, সেখানে নতুন আইনে রাজ্যকে মজুরি এবং উপকরণ উভয় খাতে ৪০ শতাংশ ব্যয়ভার নিতে হবে। ফলে রাজ্যের আর্থিক চাপ বাড়বে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যাহত হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
এছাড়া কৃষি মৌসুমে ৬০ দিনের “কাজবিহীন সময়কাল” এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের মতো বিধান গ্রামীণ শ্রমিকদের জীবিকাকে অনিশ্চিত করে তুলবে বলেও অভিযোগ তোলে শ্রমিক কংগ্রেস। নতুন আইনের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে “এমজিএনআরইজিএ বাঁচাও” অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক কংগ্রেস।
এদিন আগরতলায় প্রদেশ কংগ্রেস ভবন থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হলেও বুদ্ধ মন্দির এলাকায় পুলিশ তা আটকে দেয়। পরিস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা সেখানেই নতুন আইনের অনুলিপি পুড়িয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘটান।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ