
বাঁকুড়া, ৫ জানুয়ারি (হি. স. ) : বাঁকুড়া পুরসভার একটি শৌচালয় নির্মাণ নিয়ে শহর জুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। পুরসভার সামনে পুরানো একটি শৌচালয় ভেঙে সে জায়গায় দুই কক্ষের শৌচালয় নির্মাণ শুরু হতে চলেছে। এই নির্মাণ কাজের বিশদ তথ্য জানিয়ে একটি বোর্ড লাগানো হয়। এই বোর্ড লাগানোর পরেই শহরজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।এই বোর্ডের তথ্য অনুসারে দুকক্ষের শৌচালয় নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ৬ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৩৩ টাকা। বিতর্ক শৌচালয় নির্মাণে বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে।বিশেষ করে যেখানে পুর এলাকায় আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরিতে বরাদ্দ সাড়ে তিন লক্ষ টাকার কিছু বেশী। শহরবাসী সুভাষ দাস, সত্যেন্দ্রনাথ পাল,হারাধন নস্কর, কাবেরী মাল কারদের বক্তব্য,একটা দুই কামরার শৌচালয় তৈরি করার জন্য বরাদ্দ সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার বেশি অথচ এই পুর এলাকাতে সরকারি আবাস প্রকল্পে একটি বাড়ি তৈরি করতে বরাদ্দ করা হচ্ছে মাত্র ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা। উল্লেখ্য, আবাস যোজনায় গ্রামে একটা বাড়ি তৈরি করতে বরাদ্দ মাত্র ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এটা দ্বিচারিতা। বাঁকুড়া পুরসভার সামনে সম্প্রতি দুই কক্ষের একটি শৌচালয় তৈরির কাজ শুরু করে বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থা। নিয়ম মেনে ওই নির্মাণ কাজের তথ্য সম্বলিত বোর্ড লাগানো হয় সেখানে। এই বোর্ড দেখেই রীতিমত হতবাক হয়ে পড়েন পুরসভায় কাজে আসা স্থানীয় বাসিন্দা,কর্মী ও পথ চলতি মানুষরা।এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের ঝড় ওঠে। নেটেও এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল নিজের সামাজিক মাধ্যমে এই ছবি পোস্ট করে সরাসরি পুরসভার বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানা প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। তার বক্তব্য,আবাস প্রকল্পে শহরাঞ্চলে বাড়ি তৈরির জন্য ৩ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ওই টাকায় উপভোক্তারা এক কামরার বাড়ি, বারান্দা, রান্নাঘর ও শৌচালয় তৈরি করে ফেলছেন। সেখানে পুরসভার ২ কক্ষের শৌচালয় তৈরি করতে এত বিপুল বরাদ্দ করা হয়েছে।আসলে তৃনমূলের উপর থেকে নীচু তলা সর্বত্র কাটমানির খেলা। এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবাস প্রকল্পের উপভোক্তারাও।এই বিতর্কের আগুনে আরও ঘি ঢালে বরাদ্দ প্রাপ্ত ঠিকাদার।এই বরাদ্দ অর্থ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই নির্মাণকারী সংস্থা শৌচালয় নির্মাণের তথ্য সম্বলিত বোর্ডটি তড়িঘড়ি সরিয়ে ফেলে।এতেই বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলির স্থানীয় নেতারা কাটমানির তত্ত্ব সামনে এনেছেন। অন্যদিকে পুরসভার দাবি এই অর্থ বরাদ্দ করেছে সুডা বা স্টেট আরবান ডেভলপমেন্ট অথোরিটি।বাঁকুড়া পুরসভা ই-টেন্ডারের মাধ্যমে সেই কাজ করাচ্ছে মাত্র। পুরসভার বক্তব্য, আধুনিক সব ব্যবস্থা সহ শৌচালয় তৈরীর পরিকল্পনা থাকাতেই বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।এনিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। তবে সোমবার সকাল থেকেই চায়ের দোকান, হাটবাজার সর্বত্র এনিয়ে আলোচনা হতে শোনা যায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট