‘ভারতীয় জ্ঞানপ্রণালী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিষয়ক শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধন রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদের
গুয়াহাটি, ৫ জানুয়ারি (হি.স.) : কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিআর অডিটোরিয়ামে ‘ভারতীয় জ্ঞানপ্রণালী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষার জন্য অপরিহার্য সমন্বয়’ শীর্ষক ছয়দিন ব্যাপী শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি (এফডিপি)-র উদ্বোধন করেছেন রাজ্যপাল লক
অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করছেন লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য


সভামঞ্চে বিশিষ্টজনের সঙ্গে রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ


গুয়াহাটি, ৫ জানুয়ারি (হি.স.) : কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিআর অডিটোরিয়ামে ‘ভারতীয় জ্ঞানপ্রণালী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : একবিংশ শতাব্দীর শিক্ষার জন্য অপরিহার্য সমন্বয়’ শীর্ষক ছয়দিন ব্যাপী শিক্ষক উন্নয়ন কর্মসূচি (এফডিপি)-র উদ্বোধন করেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য।

অসমের লোক ভবন (পূৰ্বতন রাজভবন)-এর উদ্যোগে বারাণসীর ইন্টার ইউনিভার্সিটি সেন্টার ফর টিচার এডুকেশন (আইউসিটিই) এবং কটন বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বলেন, শিক্ষকতা একটি অনন্য পেশা, যা কেবল জ্ঞান প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, ব্যক্তিত্ব গঠন, মূল্যবোধের বিকাশ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ও ক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষাদান-পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। জাতীয় শিক্ষা নীতির প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যপাল বলেন, নতুন এই নীতি শিক্ষকদের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত ও প্রসারিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি, যা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে সহায়ক।

লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতীয় শিক্ষা নীতিকে এমনভাবে গঠন করা হয়েছে, যাতে ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা ও আধুনিক বিজ্ঞান-প্রযুক্তির মধ্যে সেতুবন্ধন ঘটে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ ফলাফল নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিকে অবশ্যই মানবিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে।

উত্তরপূর্ব ভারতের প্রেক্ষাপটে ভারতীয় জ্ঞান প্রণালীর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে রাজ্যপাল বলেন, এই অঞ্চলের সংস্কৃতি, পরিবেশ ও আদিবাসী ঐতিহ্যে নিহিত সমৃদ্ধ প্রথাগত জ্ঞান আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বিত হলে টেকসই সমাধান প্রদান করতে পারে।

ড. সর্বেপল্লি রাধাকৃষ্ণণের ‘সত্যিকারের শিক্ষক তাঁরা, যাঁরা আমাদের নিজেদের মতো করে ভাবতে শেখান’-এর উদ্ধৃত করে রাজ্যপাল আশা প্রকাশ করেন, এই কর্মসূচি শিক্ষকদের সমৃদ্ধ করবে, যৌথ গবেষণাকে উৎসাহিত করবে এবং উদ্ভাবনী শিক্ষণ-পদ্ধতি প্রসারে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের জাতীয় লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্য বিশিষ্টগণের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রমেশচন্দ্র ডেকা, বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকর্তা অধ্যাপক প্রেম নারায়ণ সিং, অসম সরকারের উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক দেবব্রত দাস, রাজ্যপালের ওএসডি অধ্যাপক বেচন লাল, বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande