
কলকাতা, ৫ জানুয়ারি (হি. স. )। এসআইআর নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা নিতান্তই অমূলক। সোমবার এক্সবার্তায় এই দাবি করলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তিনি লিখেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে দাবি করেছেন যে স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার ফলে গরিব মানুষ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, পরিযায়ী শ্রমিক ও প্রান্তিক নাগরিকরা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন এবং এতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
শমীকবাবু লিখেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই আশঙ্কা নিতান্তই অমূলক। “কারণ - এসআইআর সংবিধান স্বীকৃত নির্বাচন কমিশনের নিয়মমাফিক একটি স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরের পরেও থেকে যাওয়া নাম ও অবৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে তালিকাকে নির্ভুল করা। এই তালিকা থেকে কোনো নাম সরাসরি বাদ দেওয়া যায় না — নোটিস, যাচাই, শুনানি ও আপিলের সুযোগ থাকে। তাহলে এত আপত্তি কেন?”
শমীকবাবু লিখেছেন, “কারণ পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম, ডুপ্লিকেট এন্ট্রি ও বহিরাগত ভোটার থাকার অভিযোগ উঠছে। এসআইআর হলে সেই অনিয়ম প্রকাশ্যে আসবে — আর সেটাই রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ। মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে মানবিক রঙে রাঙালেও প্রকৃত গরিব ও সংখ্যালঘু মানুষের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় তখনই, যখন তাদের প্রকৃত ভোট ভুয়ো ভোটের ফলে বঞ্চিত হয়।”
শমীকবাবু লিখেছেন, “আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো — ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ইস্যু করা বহু কাস্ট (ওবিসি) সার্টিফিকেটকে কলকাতা হাইকোর্ট কার্যত বাতিল বলে পর্যবেক্ষণ করেছে। বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। ফলে বহু মানুষ সেই সার্টিফিকেট অন্য রাজ্যে বা কেন্দ্রীয় পরিষেবায় এমনকি এসআইআর-এর শুনানিতেও প্রমাণপত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারছেন না। এই প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় না নিয়ে এখন ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণকেই আক্রমণ করা হচ্ছে।
শমীকবাবু লিখেছেন, এসআইআর মানে কাউকে বঞ্চিত করা নয়। এসআইআর মানে প্রকৃত নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষা।
কারণ স্বচ্ছ ভোটার তালিকাই গণতন্ত্রের ভিত্তি।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ চায় ভয়মুক্ত নির্বাচন, ভুয়ো নামমুক্ত ভোটার তালিকা ও প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা— আর সেই লক্ষ্যেই এসআইআর প্রয়োজন।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত