
বিশালগড় (ত্রিপুরা), ৫ জানুয়ারি (হি.স.) : নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ শুধু কৃষক পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা গোটা সমাজে উৎসবের আমেজ তৈরি করে—এমনই মন্তব্য করেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু। সোমবার সিপাহীজলা জেলার কাঁঠালিয়া দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত পাঁচ দিনব্যাপী পিঠে–পুলি উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রাজ্যপাল জানান, শিশুর জন্ম থেকে শিক্ষাজীবনের অগ্রগতি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সরকার বহু প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে গুণগত শিক্ষাদান থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার জন্য ছাত্রছাত্রীদের নানা স্কলারশিপ—সবক্ষেত্রেই চলছে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ। পাশাপাশি আত্মনির্ভরতা গড়ে তুলতে বিভিন্ন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। স্বসহায়ক দলের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ সহায়তা। কৃষকদের জৈবচাষে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান রাজ্যপাল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য—এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত। সেই লক্ষ্য পূরণে রাজ্য সরকারও এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।” সমাজের শেষ ব্যক্তির কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিধায়ক বিন্দু দেবনাথ, বিধায়ক ভগবান চন্দ্র দাস, কাঁঠালিয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান মিঠু রাণী দাস, কাঁঠালিয়া বি.এ.সি. চেয়ারম্যান তপন কুমার ত্রিপুরা প্রমুখ। উদ্বোধনের পর রাজ্যপাল এলাকার দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এই মেলায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। পাশাপাশি স্বসহায়ক দলের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী–বিক্রয় এবং বিভিন্ন দফতরের উন্নয়নমূলক তথ্যসম্বলিত স্টলও প্রদর্শনীর আকর্ষণ বাড়িয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ