
বাঁকুড়া, ২৩ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর অবশেষে বাঁকুড়া শহরের উপকণ্ঠে কেশড়া-কাটজুড়িডাঙ্গা হল্ট স্টেশনটি আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো। সোমবার নবনির্মিত এই স্টেশনে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম, বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি দানা সহ রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ডাঃ সুভাষ সরকার ও বিধায়ক নীলাদ্রি দানা সবুজ পতাকা নেড়ে এই স্টেশনে ট্রেন থামার ও যাত্রার শুভ সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব রেল সূত্রে জানানো হয়েছে যে, এদিন থেকে মোট পাঁচ জোড়া অর্থাৎ দশটি প্যাসেঞ্জার ও মেমু ট্রেন এই নতুন হল্ট স্টেশনে দাঁড়াবে। প্রতিটি ট্রেন এখানে এক মিনিট করে থামবে বলে রেলের সময়সূচিতে জানানো হয়েছে।
এই নতুন হল্ট স্টেশনটি বাঁকুড়া ও আঁচুড়ি স্টেশনের মাঝখানে অবস্থিত। এতদিন এই এলাকার বাসিন্দাদের ট্রেন ধরার জন্য অনেকটা পথ পেরিয়ে মূল স্টেশনে যেতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই সমস্যা সমাধানে নতুনচটি, কাঠজুড়িডাঙ্গা, কেশড়া ও শালবনী সহ প্রায় ২০-২২টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একটি হল্ট স্টেশনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। সাংসদ থাকাকালীন ডাঃ সুভাষ সরকার এই দাবি পূরণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নতুন এই হল্ট চালু হলেও অন্যান্য স্টেশনের ট্রেনের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি, যার ফলে নিয়মিত যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে না।
এদিন প্রথম ট্রেনটি স্টেশনে এসে দাঁড়াতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। ট্রেন ও চালককে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে স্বাগত জানান উৎসাহী জনতা। সোমবার থেকে যে ট্রেনগুলি এখানে দাঁড়াবে তার মধ্যে ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে বিষ্ণুপুর-আদ্রা মেমু এবং রাত ৯টা ১০ মিনিটে আদ্রা-বিষ্ণুপুর মেমু উল্লেখযোগ্য। যাতায়াতের সুব্যবস্থা হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ প্রাক্তন সাংসদ ও রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এর ফলে বাঁকুড়া শহরের উপকণ্ঠের একটি বিস্তীর্ণ এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট