
ঝাড়গ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি (হি. স.) : ঝাড়গ্রামের একটি বেসরকারি হোম সংলগ্ন ইউক্যালিপটাস বাগান থেকে এক তেরো বছর বয়সী কিশোরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রের দেহটি উদ্ধার হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরটি সাঁকরাইল থানার অন্য একটি গ্রামের বাসিন্দা হলেও মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। সে স্থানীয় একটি স্কুলের ছাত্র ছিল এবং ওই বেসরকারি আবাসিক টিউটোরিয়াল হোমে কোচিং নিত। এই কোচিং কেন্দ্রে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বহু পড়ুয়া আবাসিকভাবে থেকে পড়াশোনা করে। অন্যান্য দিনের মতো এদিন সকালেও সে নিয়মমাফিক কোচিংয়ে এসেছিল এবং সকাল সোয়া সাতটা নাগাদ সম্মিলিত প্রার্থনায় অংশ নিয়েছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও টিউটোরিয়াল সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থনার পর ইংরেজি ক্লাস করার কথা ছিল তার। সেই মতো ক্লাসরুমে ব্যাগ রেখে সহপাঠীদের অলক্ষ্যে হঠাৎ করেই সে বাইরে বেরিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ কোচিং সেন্টারের ক্যাম্পাসের অদূরে একটি ইউক্যালিপটাস গাছে গলায় কাপড় পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় ভাঙাগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কোচিং সেন্টারের শিক্ষক মনিন্দ্র মাহাতো ঘটনার আকস্মিকতায় স্তম্ভিত। তিনি জানান যে, ছাত্রটি স্বাভাবিকভাবেই এসেছিল এবং প্রার্থনায় যোগ দিয়েছিল, কিন্তু কেন সে ব্যাগ রেখে বাইরে গেল এবং এমন মর্মান্তিক পথ বেছে নিল, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না। পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনায় ছাত্রটির সহপাঠী ও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো