পুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন কাজের উদ্বোধন, টেকসই নগরায়ণে জোর মুখ্যমন্ত্রীর
আগরতলা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : শহরের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল রাস্তা, ভবন বা আলোকসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়—পরিবেশ সংরক্ষণ, জলসম্পদ রক্ষা ও নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর জনপরিসর গড়ে তোলাই উন্নয়নের আসল মানদণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহ
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা


আগরতলা, ২৩ ফেব্রুয়ারি (হি.স.) : শহরের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল রাস্তা, ভবন বা আলোকসজ্জায় সীমাবদ্ধ নয়—পরিবেশ সংরক্ষণ, জলসম্পদ রক্ষা ও নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যকর জনপরিসর গড়ে তোলাই উন্নয়নের আসল মানদণ্ড বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। সোমবার আগরতলা পুরনিগমের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতাপগড় ঋষি কলোনিতে একটি পুকুরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন কাজের উদ্বোধন করে তিনি এ কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরায়ণ। আগরতলা সহ রাজ্যের নগর ও প্রান্তিক এলাকাগুলির সমন্বিত উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে। রাস্তা নির্মাণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ, পার্ক ও আবাসন প্রকল্প—সব ক্ষেত্রেই একযোগে উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় বিভিন্ন জলাশয় সংস্কারের অভাবে অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল, সেগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সরকারের দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে ‘অমৃত সরোবর’ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ চলছে। ‘অমৃত ২.০’ প্রকল্পে আগরতলা পুরনিগম এলাকায় প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে ত্রিপুরা জল বোর্ডের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানীয় জল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। টুডা-র মাধ্যমে নতুন টাউনশিপ, লাইট হাউজ প্রকল্পে আবাসন নির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (আরবান) ২.০-এ অনুমোদিত ৮১,০৪২টি বাড়ির মধ্যে ৭৪,৮৮০টি বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এছাড়া এডিবি-র সহায়তায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ, রাজ্যের ২০টি শহরের জিআইএস মাস্টার প্ল্যান, আগরতলা রিং রোড, ইউনিটি মল, জি+১৪ অফিস ভবন এবং শহরের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, নাগরিকদের সুস্থ পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে উপেক্ষিত জলাশয়গুলিকে পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৩ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। তিনি এলাকাবাসীকে প্রকল্পগুলির রক্ষণাবেক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন এবং ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মিহির কান্তি গোপ স্বাগত বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন কর্পোরেটর অভিজিৎ মল্লিক, সমাজসেবী স্বপ্না দাস ও অসীম ভট্টাচার্য্যসহ নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে ও অধিকর্তা মেথা জৈন প্রমুখ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande