
ঝাড়গ্রাম, ১২ মার্চ (হি.স.): রান্নার গ্যাস সরবরাহে টান পড়তেই তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ঝাড়গ্রাম জেলায়। বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের ঘাটতিতে চরম সমস্যায় পড়েছেন হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা। সরকারি দামে গ্যাস না মেলায় জেলাজুড়ে কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার কালোবাজারে ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার থেকে ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুর এলাকার একটি রেস্তোরাঁ গ্যাসের অভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।
ঝাড়গ্রাম শহর ছাড়াও লোধাশুলি, জামবনিসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ছোট হোটেল ও খাবারের দোকান মালিকদের অভিযোগ, নিয়মমাফিক উপায়ে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার মিলছে না। ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক হোটেল মালিক বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠ বা কয়লার সাহায্যে রান্না শুরু করেছেন। কোথাও আবার গ্যাসের অভাবে রান্নার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ছোট খাবারের হোটেল— সর্বত্রই একই সংকটের ছবি ধরা পড়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বহু কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ঘাটতির কারণে অনেক জায়গায় বেআইনিভাবে গৃহস্থালির (ডোমেস্টিক) গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি সরকার পরিচালিত ‘মা ক্যান্টিন’-এ প্রতিদিনের রান্নাতেও ডোমেস্টিক সিলিন্ডার ব্যবহার হচ্ছে বলে স্থানীয়দের একাংশের দাবি। যদিও নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক কাজে গৃহস্থালির সিলিন্ডার ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরাও। গৃহস্থালির গ্যাস বুকিং করলেও অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো সিলিন্ডার মিলছে না এবং পরবর্তী বুকিংয়ের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ব্যবধান রাখতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ঝাড়গ্রামের এক ইন্ডেন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সুরজিৎ হাঁসদা বলেন, “গত কয়েক দিন ধরে নিয়মিত গ্যাসের গাড়ি আসছে না। সেই কারণেই সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে।” তবে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, এই সংকটের সুযোগেই জেলাজুড়ে কালোবাজারি মাথাচাড়া দিয়েছে। সরকারি সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বাজার। সব মিলিয়ে রান্নার গ্যাসের আকালে ঝাড়গ্রামে এখন নাজেহাল অবস্থা। বাড়ির রান্নাঘর থেকে হোটেলের উনুন— সর্বত্রই অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো