
ঝাড়গ্রাম, ১২ মার্চ (হি.স.): নাবালিকাকে অপহরণ করে গণধর্ষণের মামলায় তিন যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম পকসো আদালতের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র এই সাজা ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলো জামবনি থানার গিধনি এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মণ টুডু, কানাই রানা এবং রবিন রানা ওরফে ধান্ডু। দণ্ডিত তিনজনেরই বয়স ২০ থেকে ২২ বছরের মধ্যে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, ওই সময় এলাকার এক ১৪ বছরের পরিচিত নাবালিকাকে লক্ষ্মণ টুডু কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে তাকে তার দিদির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি মাটির ঘরে নাবালিকাকে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, ঘটনার সময় লক্ষ্মণ টুডু তার দুই সঙ্গী কানাই রানা ও রবিন রানাকে ডেকে আনে। তারা নাবালিকার জন্য খাবার নিয়ে আসে এবং তারাও নাবালিকার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের জেরে নাবালিকা অচেতন হয়ে পড়ে। পরে কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরে সে তার মাকে পুরো ঘটনা জানায়।
এরপর ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ জামবনি থানায় ওই নাবালিকা নিজেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৩৭(২) (অপহরণ), ১৪৩(৪) (ট্রাফিকিং), ৭০(২) (গণধর্ষণ) এবং ৩(৫) (কমন ইনটেনশন) ধারায় মামলা রুজু করে। পাশাপাশি পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়। পুলিশ ১৩ সেপ্টেম্বর এলাকা থেকেই চারজনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে একজন নাবালক হওয়ায় তাকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম পকসো আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। তদন্তকারী অফিসার সুদীপ্ত মান্না-সহ মোট ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত শনিবার তিন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করার পর বৃহস্পতিবার বিচারক অরবিন্দ মিশ্র তাঁদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনান। এছাড়াও পকসো আইনের ৬ ধারায় ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অপহরণের দায়ে সাত বছর এবং ট্রাফিকিংয়ের অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সব সাজাই একসঙ্গে চলবে। বিশেষ সরকারি আইনজীবী তপনকুমার চৌধুরী জানান, উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথির ভিত্তিতেই আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো