
ঝাড়গ্রাম, ১২ মার্চ (হি.স.): প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতি ক্রমশ কমে যাওয়ার প্রবণতা রুখতে উদ্যোগী হয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ। স্কুলকে পড়ুয়াদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং শিক্ষণ উপকরণের ব্যবহারে জোর দিয়ে শুরু হয়েছে চক্রভিত্তিক কর্মশালা। জেলার বিভিন্ন চক্রের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ঝাড়গ্রাম জেলার বহু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল নিয়মিত থাকলেও পড়ুয়াদের উপস্থিতির হার ধীরে ধীরে কমছে। শহরাঞ্চলে সমস্যাটি তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও প্রায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের পরিবেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ।
সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উজ্জ্বল দত্ত। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন এবং শিক্ষক, পড়ুয়া ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে উপস্থিতি কমার কারণ জানার চেষ্টা করছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নত করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই জেলার প্রতিটি চক্রের অধীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে “বিদ্যালয় অভিমুখীকরণ কর্মসূচি” শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (এসআই)-দের উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম ব্লকের নয়াগ্রাম ও নয়াগ্রাম–১ চক্রে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নয়াগ্রাম চক্রের অধীন ৮৩টি স্কুলের মধ্যে ৮১টি স্কুলের প্রধান শিক্ষক কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে নয়াগ্রাম–১ চক্রের অধীন ৮৭টি স্কুলের মধ্যে ৮৫ জন প্রধান শিক্ষক অংশ নেন। একইভাবে জেলার অন্যান্য চক্রেও পর্যায়ক্রমে এই কর্মশালা আয়োজন করা হবে।
জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম জেলায় মোট ১,২৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আটটি ব্লক ও একটি পুরসভা মিলিয়ে মোট ১৮টি চক্রে এই বিদ্যালয়গুলি পরিচালিত হয়। কর্মশালায় স্কুলকে পড়ুয়াদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে টিএলএম (টিচিং লার্নিং ম্যাটেরিয়াল) ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভূপ্রকৃতি বোঝাতে মানচিত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া লক্ষ্য করা গেছে, বিকেল তিনটার পর অনেক পড়ুয়া পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে এবং বাড়ি ফেরার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে। সেই কারণে বিকেল তিনটার পর বিদ্যালয়ে খেলাধুলার জন্য আলাদা সময় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি স্কুলে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মনীষীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি, কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং পুরস্কার প্রদানের মতো উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের শিক্ষামুখী বিভিন্ন প্রকল্প—যেমন কন্যাশ্রী ও ঐক্যশ্রী—সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে, যাতে অভিভাবকরাও সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে আরও আগ্রহী হন।
এছাড়াও মিডডে মিলের খাবারের মান উন্নত রাখার বিষয়েও প্রধান শিক্ষকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান উজ্জ্বল দত্ত বলেন, “বিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়াতে হলে স্কুলকে তাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্যেই চক্রভিত্তিক এই কর্মশালাগুলি আয়োজন করা হচ্ছে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো