
কলকাতা, ১৪ মার্চ (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার কলকাতায় ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন। সমাবেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতের জন্য উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে এই অনুষ্ঠানে সড়ক, রেলপথ এবং বন্দর পরিকাঠামো সম্পর্কিত ১৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বিভিন্ন প্রকল্প জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্ব ভারতে নতুন গতি সঞ্চার করবে, বাণিজ্য ও শিল্পকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে সহজ করে তুলবে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে খড়গপুর-মোরগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শেষ হলে পশ্চিমবঙ্গের অনেক অংশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করবে। তিনি দুবরাজপুর বাইপাস এবং কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর উপর নির্মিত প্রধান সেতুগুলির কথাও উল্লেখ করেন। এগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। মোদী বলেন এই রূপান্তরমূলক প্রকল্পগুলির জন্য আমি পশ্চিমবঙ্গ এবং সমগ্র পূর্ব ভারতের জনগণকে অভিনন্দন জানাই ”।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণের জন্য দেশজুড়ে একটি জোরদার প্রচার চালানো হচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গ যেন এই অভিযানে পিছিয়ে না থাকে সরকার সেজন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামোর দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। কলাইকুন্ডা-কানিমহুলি শাখায় স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং সিস্টেম জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে। মোদী বলেন এই উদ্যোগগুলি ব্যস্ত রেল পথের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে, ভ্রমণকে নিরাপদ করবে এবং যাত্রীদের জন্য গতি ও সুবিধা বৃদ্ধি করবে” ।
প্রধানমন্ত্রী কামাখ্যাগুড়ি, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বীরভূম এবং সিউড়ি এই ছয়টি স্টেশনকে অমৃত ভারত স্টেশন হিসেবে উদ্বোধনের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন বাংলার মহান সংস্কৃতি এখন এই স্টেশনগুলিতে আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে এবং আরও বেশ কয়েকটি স্টেশন পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। পুরুলিয়া এবং আনন্দ বিহার টার্মিনালের মধ্যে একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবারও উদ্বোধন করা হয়েছে। মোদী বলেন এই ট্রেন পরিষেবা থেকে কেবল পশ্চিমবঙ্গের জনগণই নয়, ঝাড়খণ্ড, বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লির জনগণও উপকৃত হবেন।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে সড়ক ও রেল সংযোগের মতো বন্দর এবং জল পরিবহনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে, পূর্ব ভারতের এই বিশাল সম্ভাবনাকে মূলত অবহেলিত রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ, জলপথ বাণিজ্য ও শিল্প অগ্রগতির জন্য নতুন পথ খুলে দেওয়া দিচ্ছে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উৎসর্গ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন যে কলকাতা এবং হলদিয়া বন্দর দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ভারতে বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র এবং হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের যান্ত্রিকীকরণ কার্গোর কাজকর্মকে ত্বরান্বিত করবে, বন্দরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করবে। এছাড়াও, কলকাতা ডক সিস্টেমে বাসকুল ব্রিজের সংস্কার এবং খিদিরপুর ডকে কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও করা হচ্ছে। মোদী বলেন, এই সমস্ত প্রকল্প পূর্ব ভারতের সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে সড়ক, রেলপথ এবং বন্দর সম্পর্কিত নতুন প্রকল্পগুলি পশ্চিমবঙ্গের জন্য একটি আধুনিক ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করছে। তিনি বলেন এই প্রকল্পগুলির সুবিধা কৃষক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী এবং সমাজের প্রতিটি অংশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। পর্যটনের মতো ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় শিল্প ও পরিষেবা নতুন গতি পাবে। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে পথ দেখানোর ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি আধুনিক পরিকাঠামো ও শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি উন্নত বাংলার ভিত্তি তৈরি করবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “ যে বাংলা, সর্বদা ভারতকে পথ দেখিয়েছে,তা আবারও 'বিকশিত বাংলা' হয়ে ওঠার হৃত গৌরব অর্জন করবে এই আমাদের সঙ্কল্প।
এদিকে, শনিবার রাজ্যে এসে সরকারি সভার সঙ্গেই দলীয় সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেডের সমাবেশে আসার পথে বিজেপি নেতা-কর্মীরা নানা জায়গায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলছিলেন, তার প্রতিধ্বনি শোনা গেল এ বার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে। তিনি বলেন, নিজেদের কুর্সি যাচ্ছে দেখে, এখানকার নির্মম সরকার উন্মাদ হয়ে গিয়েছে। সভায় আসতে বাধা দিতে যানজট করেছে। বিজেপির পতাকা ফেলে দিয়েছে। সেতু বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু নির্মম সরকার দেখে নাও, এই জনসমাগম তোমরা রুখতে পারোনি। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিগেড ময়দানের সভা থেকে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই সঙ্গে দিলেন 'হুঁশিয়ারি'-ও। দলের সমাবেশ থেকে মোদীর বক্তব্য, সময় গোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই দিন আর দূরে নেই। এই বারে আইনের শাসন শুরু হবে। যে আইন ভাঙবে, তাকে খুঁজে খুঁজে বার করা হবে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যে বাধার অভিযোগে ফের এ দিন শান দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেড ময়দানের সভা থেকে তিনি বলেন, তৃণমূল সরকারের একটাই লক্ষ্য, নিজেরা কাজ করবে না, করতেও দেবে না। কাটমানি না-মিললে কোনও প্রকল্পকে গ্রাম-বাংলায় পৌঁছতে দেয় না। তাই কেন্দ্রের প্রকল্পে বাধা দেয় এই সূত্রেই বিশ্বকর্মা যোজনা-সহ নানা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন মোদী। এর সঙ্গেই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাজ্যের কর্মসংস্থান নিয়েও সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নির্মম সরকার যুবক-যুবতীদের পালিয়ে যাওয়ার অভিশাপ দিয়েছে। বাংলার যুবসমাজ পরিশ্রমী। কিন্তু এখন তাঁরা এখান থেকে না পাচ্ছেন ডিগ্রি, না হচ্ছে চাকরি। ভিনরাজ্যে যেতে হচ্ছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পর বাম এবং তৃণমূল, একে একে এসে পকেট ভরেছে। তৃণমূল সরকার প্রকাশ্যে চাকরি বিক্রি করেছে। বিজেপি সরকার এলে রাজ্যেই যুব সম্প্রদায় কাজ পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মোদী।
রাজ্যে এই বছর আলুর অতিরিক্ত ফলন এবং তার পরেও রাজ্য সরকারের 'উদাসীনতা'র জন্য চাষিরা দাম পাচ্ছেন না, এমন অভিযোগে ধারাবাহিক ভাবে সরব বিভিন্ন শিবির। এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের আলু চাষিদের 'দুর্দশা' নিয়ে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। ব্রিগেড ময়দানের সভা থেকে তিনি বলেন, বাংলার কৃষকের অবস্থাও শোচনীয়। সম্প্রতি চন্দ্রকোণায় আলু চাষি আত্মঘাতী হয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে হুগলি, বর্ধমান পর্যন্ত সমস্যা চলছে। সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতিই তৃণমূলের পরিচিতি। তৃণমূলের কাটমানি, কমিশনের জন্য চাষি থেকে মধ্যবিত্তের জীবন-জীবিকা নিয়ে খেলা করা হচ্ছে। নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেড ময়দানের সভা থেকে মোদী বলেছেন, সন্দেশখালি থেকে আর জি কর-কাণ্ড, বাংলার মানুষ ভোলেননি। তৃণমূল কী ভাবে প্রকাশ্যে অপরাধীদের সঙ্গে থাকে, সকলেই দেখেছে। মেয়েদের বলতে হয়, বাড়ি ফিরে এসো সন্ধ্যা নামার আগে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতি বদলে যাবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি। এ বার তৃণমূলকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। নতুন বাংলা গড়ার ডাক দিয়ে মোদী তৃণমূলের মা-মাটি-মানুষ স্লোগানকে কটাক্ষ করে বলেন, বাংলার মা নিঃস্ব, মাটি লুণ্ঠিত, মানুষ চলে যাচ্ছে! মা, বোনেদের বলছি, বিজেপি সরকার হলে নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি।
দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলকে নিশানা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তিনি অভিযোগ করেন, চা-বাগানের শ্রমিকদেরও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেয় না তৃণমূল। পাকা বাড়ি সর্বত্র পাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু এখানে প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও যাঁদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। জলজীবন মিশন থেকে আয়ুষ্মান ভারত, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের জন্য বঞ্চিত বলে অভিযোগ মোদীর। তিনি বলেন, বাংলাকে অসুরক্ষিত করেছে সরকার। এখানে খোলাখুলি ধমক দেওয়া হচ্ছে যে একটি বিশেষ সম্প্রদায় আপনাদের খতম করে দেবে। সাংবিধানের কুর্সিতে বসে এমন কথা আপনার মুখে শোভা পায় না। ধমকানোই তৃণমূলের রাজনীতি। বাংলায় ভয়ের মহল বানিয়ে রাখা হচ্ছে, দুনিয়ার তা দেখা প্রয়োজন। এরা বলে তৃণমূলকে যে ভোট দেয় না, সেই বাঙালি-ই নয়! আমি তৃণমূলকে মনে করাচ্ছি, ওদের গুন্ডামির দিন এ বার শেষ হওয়ার মুখে। তৃণমূল সরকারের যাওয়ার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপি সরকার তৈরি হওয়ার পরে সকলের উন্নয়ন হবে এক দিকে, অন্য দিকে সব কিছুর হিসাব হবে। তৃণমূলের গুন্ডারা যারা আপনাদের ভয় দেখায়, তাদের খারাপ দিন আসছে। আইনের শাসন হবে। অপরাধীদের একটাই জায়গা জেল। পাশাপাশি, অনুপ্রবেশের কথা বলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলেও সরব হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভোট-রাজনীতির জন্য তৃণমূলই বাধা দিয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন মোদী। পাশাপাশি, ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থেই মৃতদের নামও তৃণমূল ভোটার তালিকায় রাখতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আসন্ন ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রেক্ষিতে তৃণমূলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ব্রিগেড ময়দানের সভা থেকে মোদী বলেছেন, যখনই কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের চেষ্টা করে, তখনই তৃণমূল হামলা করে। যারা নিরপেক্ষ, তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। এও বলেন, ওঁরা শুধু রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেননি। ওঁরা আদিবাসীদের অপমান করেছেন। কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছেন। দেশের সর্বোচ্চ পদের গরিমাকে খাটো করেছেন। ওঁরা সংবিধানের অপমান করেছেন। বাবাসাহেব আম্বেদকরকে অপমান করেছেন। এর সাজা নির্মম সরকার পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসন্ন নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, বরং “বাংলার আত্মা রক্ষার লড়াই”। শনিবার কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে লক্ষ লক্ষ মানুষের জনসমাবেশ থেকে এই ভাষাতেই তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই সমাবেশই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে বাংলায় পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কতটা প্রবল এবং শাসক দলের পরাজয় এখন সময়ের অপেক্ষা।
নিজের ভাষণের শুরুতেই বাংলার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ময়দান বহুবার ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে, আজ এখান থেকেই নতুন বাংলার বিপ্লবের ডঙ্কা বেজে উঠল।” তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, নিজের ক্ষমতা হারানো নিশ্চিত দেখে তৃণমূল সরকার ‘উন্মাদ’ হয়ে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। মোদী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাজ্যে মহাজঙ্গলরাজের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। যে আইন ভাঙবে, তাকে খুঁজে বার করে জেলের ঘানি টানানো হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, অনুপ্রবেশের কারণে বাংলার ‘রুটি, বেটি আর মাটি’ আজ বিপন্ন। তোষণের রাজনীতির কারণে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে এবং বাঙালি হিন্দুদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী এদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূলকে তুলোধোনা করেন। তিনি বলেন, “সাঁওতাল আদিবাসী ঐতিহ্যের উৎসবে রাষ্ট্রপতি যখন বাংলায় এসেছিলেন, তখন রাজ্য সরকার যেভাবে তাঁকে অবজ্ঞা করেছে, তা কেবল তাঁর অপমান নয়—তা দেশের কোটি কোটি আদিবাসী, মহিলা এবং বাবাসাহেব অম্বেডকরের সংবিধানের অপমান।”
তিনি সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, যখন জনতা একবার পরিবর্তনের সংকল্প করে, তখন কোনও শক্তিই তাকে রুখতে পারে না।
উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার পথে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্কে বিজেপি ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ইটের ঘায়ে গুরুতর আহত হন বৌবাজার থানার ওসি। অন্যদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা ও নারায়ণগড়ে ব্রিগেডে আসার পথে বিজেপি কর্মীদের বাসে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি