

গুয়াহাটিতে কংগ্রেসের কালো অধ্যায় উন্মোচন করলেন অমিত; উন্নয়ন, চাকরি, শান্তি ও সুশাসনের প্ৰতিশ্ৰুতি বাস্তবায়ন করতে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান শাহের
গুয়াহাটি, ১৫ মাৰ্চ (হি.স.) : অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, দখলমুক্ত জমি উদ্ধার এবং তৃতীয়বারের জনাদেশ নিয়ে হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন সরকার অসমকে সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশমুক্ত করবে, জোরের সঙ্গে বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী অমিত শাহ। গুয়াহাটিতে কংগ্রেসের কালো অধ্যায় উন্মোচন করে উন্নয়ন, চাকরি, শান্তি ও সুশাসনের প্ৰতিশ্ৰুতি বাস্তবায়ন করতে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ রবিবার গুয়াহাটির খানাপাড়ায় অসমের ৩১,৪০০টি বুথ থেকে প্রায় ১.৫০ লক্ষ যুবক-যুবতীর অংশগ্রহণে আয়োজিত বিশাল ‘যুবশক্তি সমারোহ’-এ উদাত্ত ভাষণ দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী অমিত শাহ। প্ৰদত্ত ভাষণে শাহ বলেন, যুবসমাজের এই বিপুল উপস্থিতি আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানমঞ্চে অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, বিজেপির প্ৰদেশ সভাপতি সাংসদ দিলীপ শইকিয়া, অসম বিজেপির নির্বাচন প্রভারি ও সাংসদ বৈজয়ন্তজয় পাণ্ডা, রাজ্য প্রভারি হরিশ দ্বিবেদী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মাৰ্ঘেরিটা, বিজেপি যুবমোর্চার জাতীয় সভাপতি তেজস্বী সূর্য, সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, কামাখ্যাপ্রসাদ তাসা, রাকেশ দাস সহ বহু নেতার উপস্থিতিতে ‘যুবশক্তি সমারোহ’-এ ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা তাঁকে ফোন করে জানান, গুয়াহাটিতে যুব মোর্চার একটি বড় সমাবেশ হবে। তাঁকে সেখানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন হিমন্তবিশ্ব। তাঁর ধারণা ছিল, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার যুবক-যুবতী সমাবেশে একত্রিত হবেন। কিন্তু আজ তিনি দেখলেন, এই সমাবেশ কোনও রাজনৈতিক দলের সাধারণ জনসভা থেকেও বড়। অসমের ৩১,৪০০টি বুথ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার যুবক-যুবতী এই প্যান্ডেলে উপস্থিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, যে কোনও নির্বাচনের ফলাফল অনেক সময় দলের যুবকর্মীদের সাংগঠনিক শক্তি দেখে অনুমান করা যায়। আজকের এই যুব মহাকুম্ভ স্পষ্ট করে দিয়েছে, আগামী দিনে আবারও হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠিত হবে। তিনি এই মঞ্চ থেকে ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আসন্ন নির্বাচনে অসমে এবার সর্বাধিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি সরকার হবে।
অমিত শাহ বলেন, আগেরবারের নির্বাচনে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ১ লক্ষ যুবককে চাকরি দেওয়া হবে। এক বছর আগে অসমে এসে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার কাছে এই প্রতিশ্রুতির হিসাব চেয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানান, ১ লক্ষ নয়, ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৬৫ হাজার যুবক-যুবতীকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। তিনি উপস্থিত যুবক-যুবতীদের জিজ্ঞাসা করেন, এই চাকরি পেতে কি কাউকে এক টাকাও ঘুষ দিতে হয়েছে? কোনও নেতার সুপারিশ প্রয়োজন হয়েছিল কি? নিজেই উত্তর দিয়ে শাহ বলেন, কোনও ঘুষ বা সুপারিশ ছাড়াই বিজেপি সরকার ১ লক্ষ ৬৫ হাজার যুবক-যুবতীকে চাকরি দিয়েছে। বিজেপি সরকার কীভাবে শাসন করে এটা তার স্পষ্ট উদাহরণ।
শাহ বলেন, কংগ্রেস কখনওই অসমের ভাষা, সংস্কৃতি এবং স্বাভিমানকে সম্মান করেনি। বিজেপি সরকার অসমের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গৌরবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করছে। দীর্ঘদিন কংগ্রেস শাসন করলেও মহান বীর লাচিত বড়ফুকনকে বিশ্ব খুব কম চিনত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মূর্তি উন্মোচন করেছেন এবং তাঁর জীবনী ভারতের সব ভাষায় উপলব্ধ করেছেন।
চরাইদেও মৈদামকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভূপেন হাজরিকাকে ভারতরত্ন প্রদান করে অসমের সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো হয়েছে। গত পাঁচ বছরে অসমের বিহু নৃত্য, চা-বাগানের ঝুমুর নৃত্য এবং বড়ো সম্প্রদায়ের বাগুরুম্বা নৃত্য বিশ্বরেকর্ডের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
কংগ্রেসের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি রাহুল গান্ধীকে ঠুকেছেন। বলেন, ‘রাহুল গান্ধী সংসদে চা-পকোড়া খেতে যান। সংসদের বিষয় বোঝেন না তিনি। সংসদ নাস্তা করার জায়গা নয়। সংসদে তিনি কিছু বলতে পারেন না, পালিয়ে বেড়ান। আর যেখানে ভারতের শক্তি দেখতে বিশ্বের মানুষ আসে, সেখানে তিনি বিরোধিতা করেন। ভারতের এআই সামিট বিশ্বজুড়ে প্রশংসা হয়েছে। অথচ কংগ্রেস তার বিরোধিতা করে কাপড় খুলেছে। মোদী এবং বিজেপির বিরোধিতা করতে গিয়ে তিনি দেশের নিন্দা করছেন।’
অমিত শাহ বলেন, কংগ্রেস আমলে অসম বিদ্রোহ ও হিংসার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। কিন্তু মোদীর নেতৃত্বে বড়ো, কার্বি, আদিবাসী, ডিএনএলএ এবং আলফা-র সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে ১০ হাজার ৮০০-র বেশি সশস্ত্র সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে এবং রাজ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
মোদী সরকার অসমের আহোম, চুতিয়া, মরান, কোচ, রাজবংশী এবং চা জনগোষ্ঠীকে জমির অধিকার দিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপনের ব্যবস্থা করেছে।
মোদীজি চা-বাগানের ৩.৫ লক্ষ শ্রমিককে জমির অধিকার এবং ৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়ে তাঁদের সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া, মোদী সরকারের আমলে অসমে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বগিবিল সেতু বিশ্বের অন্যতম ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া ভূপেন হাজরিকা সেতু, কুমার ভাস্কর সেতু, এইমস, আইআইএম, এনএফএসইউ, রিভারফ্রন্ট উন্নয়ন, শিলচর এক্সপ্রেসওয়ের মতো বহু প্রকল্প শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ২৭ হাজার কোটি টাকার সেমিকন্ডাক্টর কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, বলেন অমিত শাহ।
তিনি বলেন, অসমের জিএসডিপি ৪ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মাথাপিছু আয় ৪৯ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে।
অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে শাহ বলেন, কংগ্রেস সরকারের আমলে অসম অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছিল। বিজেপি সরকার ১ লক্ষ ৫১ হাজার বিঘা জমি বেদখলকারী অনুপ্রবেশকারীদের কবল থেকে মুক্ত করেছে। কংগ্রেস যে সব অনুপ্রবেশকারীদের লিগ্যালাইজ, ফরমালাইজ এবং নরমালাইজ করেছিল, বিজেপি সরকার তাদের বেছে বেছে দেশ থেকে বের করে দেবে, রাহুল গান্ধী যতই বিরোধিতা করুন না-কেন। তিনি বলেন, তৃতীয়বার জনাদেশ পেলে অসমকে সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশমুক্ত করা হবে।
শেষে অমিত শাহ অসমের যুবসমাজকে আহ্বান জানান, ভোটের তারিখ পর্যন্ত প্রত্যেক যুবক-যবতীকে নিজের বুথ, গ্রাম এবং শহরে বিজেপির বার্তা, পদ্মচিহ্ন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীতিকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে। জোরের সঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার হাত শক্তিশালী করে এবং মোদীর নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করে অসমে আবারও তৃতীয়বার বিজেপি সরকার গঠন করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস