

নয়াদিল্লি, ১৫ মার্চ (হি.স.) : দিল্লি ও কলকাতায় সক্রিয় বিদেশি সোনা পাচারচক্রের পর্দাফাঁস করে ছয়জনকে গ্রেফতার করল রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদফতর (ডিআরআই)। অভিযানে সোনা, রুপো ও ভারতীয় মুদ্রা মিলিয়ে মোট ১৪.১৩ কোটি টাকার বেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
রবিবার ডিআরআই সূত্রে জানা গেছে, চোরাই পথে আনা বিদেশি সোনা রেলপথে দিল্লিতে আনা হত। সেখানে অবৈধভাবে সোনা গলিয়ে তার উপর থাকা পরিচয়-চিহ্ন মুছে ফেলা হত এবং পরে স্থানীয় বাজারে গোপনে বিক্রি করা হত।
অভিযানে মোট ৮২৮৬.৮১ গ্রাম সোনা (মূল্য প্রায় ১৩.৪১ কোটি টাকা), ৭৩৫০.৪ গ্রাম রূপো (মূল্য প্রায় ১৯.৬৭ লক্ষ টাকা) এবং ৫১ লক্ষ ৭৪ হাজার ১০০ টাকা ভারতীয় মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ১৯৬২ সালের শুল্ক আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ডিআরআই আধিকারিকরা কলকাতা থেকে ট্রেনে যাওয়া এক যাত্রীকে নয়াদিল্লি রেলস্টেশনে আটক করেন। তার কাছ থেকে বিদেশের সোনা উদ্ধার হয়, যা স্টেশনের বাইরে এক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। পরে বাহক ও যার নেওয়ার কথা ছিল, দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তের ভিত্তিতে দিল্লির একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে একটি অবৈধ সোনা গলানোর জায়গার হদিস মেলে। সেখানে বিদেশি সোনা গলিয়ে তার চিহ্ন মুছে ফেলা হত। ওই জায়গা থেকে অতিরিক্ত সোনা, রূপো ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয় এবং সেখানকার একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে পরে কলকাতায় মূলচক্রীর খোঁজ মেলে। সেখানে আর একটি অবৈধভাবে মূল্যবান ধাতু গলানোর স্থান থেকে সোনা উদ্ধার করা হয়। মূল পরিকল্পনাকারী সহ আরও দুই বাহককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে, চোরাই সোনা গলিয়ে তার পরিচয়চিহ্ন মুছে ফেলে রেলপথে দিল্লিতে পাঠিয়ে বাজারে বিক্রি করা হত।
এই মামলায় চোরাচালান, পরিবহণ, সোনা গলানো এবং বিক্রির সঙ্গে যুক্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য