
দুর্গাপুর, ১৫ মার্চ (হি. স.): কাঁকসার বামুনাড়া শিল্পতালুকের একটি বেসরকারি কারখানার ভিতর থেকে নিখোঁজ এক শ্রমিকের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে কারখানার গেটের সামনে বিক্ষোভে বসেন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত শ্রমিকের নাম পার্থ দত্ত (২২)। তিনি বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি থানার কেন্দুয়াডিহি গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার সকালে কারখানার ভিতর থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করে কাঁকসা থানার পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, পার্থ গত প্রায় দেড় বছর ধরে বামুনাড়া শিল্পতালুকের ওই কারখানায় জুনিয়র ফিটার হিসেবে কাজ করছিলেন। ১৩ মার্চ রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত তাঁর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয়। তখন তিনি কর্মরত ছিলেন। এরপর থেকে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।
মৃতের জ্যাঠাতো ভাই বাম দত্ত জানান, ১৪ মার্চ সকালে ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় তাঁরা কারখানায় যান। কিন্তু তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কোনওভাবে একজনকে ঢুকতে দেওয়া হলে কারখানার ভিতরে পার্থর জুতো পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিরাপত্তারক্ষীরা দাবি করেন, তিনি সকাল ৭টার সময় কারখানা থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
পরিবারের দাবি, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রাত ১০টা পর্যন্ত পার্থকে ট্যাঙ্কের উপর কাজ করতে দেখা গেলেও তার পরের কোনও ফুটেজ দেখানো হয়নি। এমনকি সকাল ৭টায় বেরিয়ে যাওয়ার কথাও সিসি ক্যামেরাতে দেখা যায়নি। এরপরই সন্দেহ হওয়ায় গঙ্গাজলঘাটি, বড়জোড়া ও কাঁকসা থানায় নিখোঁজ মামলা দায়ের করা হয়।
মৃতের মাসতুতো ভাই রাজীব ঘোষের অভিযোগ, পার্থর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। তাঁদের আশঙ্কা, কারখানার ভিতরেই তাঁকে খুন করা হয়েছে এবং প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঠিক তদন্ত ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা