
আলিপুরদুয়ার, ১৭ মার্চ (হি.স.) : আলিপুরদুয়ার ১ নম্বর ব্লকের পারপতলাখাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা থেকে মঙ্গলবার সকালে এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত মহিলার নাম ফুলো মুন্ডা (৩৫)। পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ অবস্থায় প্রেমিক অর্জুন মুন্ডা তাঁকে হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়, যার ফলে বিনা চিকিৎসায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুলো মুন্ডা গত এক বছর ধরে অর্জুন মুন্ডার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। দুজনেই বিহারে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিলেন। সেখানে ফুলো অসুস্থ হয়ে পড়লে অর্জুন তাঁকে ফালাকাটায় ফিরিয়ে আনেন। সোমবার রাতে তাঁকে তাঁর দিদি মালতি মুন্ডার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। মালতিদেবী ফুলোকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
অভিযোগ, অর্জুন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাম করে দিদির বাড়ি থেকে বের করলেও মাঝরাস্তায় স্কুলের বারান্দায় ফেলে রেখে চম্পট দেয়। ওই রাতে এলাকায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে ধুঁকতে সেখানেই প্রাণ হারান ফুলো। মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুলের বারান্দায় মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে অর্জুনের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকার অভিযোগ তুলে কঠিন শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক অর্জুন মুন্ডার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি