
আগরতলা, ১৭ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরার বাজেট ও মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ঘোষণা নিয়ে বিধানসভায় মঙ্গলবার তীব্র বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের অভিযোগ খারিজ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাজেট এবং ডিএ ঘোষণার মধ্যে কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই এবং মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত যে কেউ ঘোষণা করতে পারেন।
এদিন বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করে সুদীপ রায় বর্মন দাবি করেন, ডিএ ঘোষণা নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি বাজেটের আগে ক্যাবিনেট বৈঠক হয়ে থাকে, তবে সেই মেমো হাউজে পেশ করা হোক। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর ডিএ ঘোষণাকে তিনি মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের প্রতি অসম্মানজনক বলেও মন্তব্য করেন।
এর জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা কংগ্রেস বিধায়কের অভিযোগ দৃঢ়ভাবে খণ্ডন করে বলেন, “ডিএ ঘোষণা বাজেটের সঙ্গেই করতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত হলে পরে যে কেউ তা ঘোষণা করতে পারেন।” তিনি আশ্বস্ত করেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাবিনেট মেমো হাউজে পেশ করা হবে এবং পুরো প্রক্রিয়াই আইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য অনুচিত বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস বিধায়কের বাচনভঙ্গি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়। তিনি বলেন, “বিধানসভা গণতন্ত্রের পীঠস্থান। এখানে প্রতিবাদ ও মতামত প্রকাশের অধিকার থাকলেও তা সৌজন্যতার মধ্যে হওয়া উচিত।”
এ সময় ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে মুখ্য সচেতকের বক্তব্যের সমর্থন জানান। ফলে কিছু সময়ের জন্য বিধানসভায় উত্তেজনা বিরাজ করে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ