
নয়াদিল্লি ও ইন্দোর, ১৮ মার্চ (হি.স.): দেশের দুই শহর দিল্লি ও ইন্দোরে পৃথক অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। দুই ঘটনাতেই অনেকে আহত হয়েছেন। শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। দিল্লির ঘটনার পর ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন, দমকল এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
দিল্লির পালামে অগ্নিকাণ্ড
রাজধানী দিল্লির পালাম মেট্রো স্টেশনের কাছে শ্রীরাম চকের ২ নম্বর গলিতে একটি বহুতলে বুধবার সকালে ভয়াবহ আগুন লাগে। দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই একে একে পৌঁছে যায় দমকলের প্রায় ৩০টি ইঞ্জিন ও উদ্ধারকারী দল। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে এক শিশু সহ ২ জন নাবালিকাও রয়েছে। আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় বহু মানুষ ভিতরে আটকে পড়েন। কয়েকজন প্রাণ বাঁচাতে ভবন থেকে ঝাঁপ দেন বলেও জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভবনের নীচতলায় কাপড় ও প্রসাধনীর শোরুম ছিল এবং উপরের তলাগুলিতে বসবাস করতেন পরিবারের সদস্যরা। আগুনের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ফরেন্সিক দলকে তদন্তে ডাকা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন পুরুষ, প্রবেশ (৩৩) এবং কমল (৩৯), এবং চারজন মহিলা, আশু (৩৫), লাডো (৭০), হিমাংশী (২২) এবং দীপিকা (২৮)। নিহতদের মধ্যে ১৫, ৬ এবং ৩ বছর বয়সী তিনজন নাবালিকাও রয়েছে। ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে ২৫ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইন্দোরে বাড়িতে আগুন, পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের ব্রিজেশ্বরী অ্যানেক্স রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় বুধবার ভোরে একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এই ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাড়ির বাইরে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জ দেওয়ার সময় শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন গাড়ি থেকে বাড়ির ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের ভিতরে থাকা একাধিক গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটায় আগুন আরও ভয়াবহ আকার নেয়।
ঘটনার সময় বাড়িতে পারিবারিক অনুষ্ঠান চলছিল এবং বহু সদস্য ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। ফলে অনেকেই বেরোতে পারেননি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ইলেকট্রনিক লক কাজ না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে অনুমান। দমকল ও উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ সময়ের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
মৃত সবাই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মনোজ জৈন পুগালিয়া (৬৫), সিমরান (৩০), বিজয় শেঠিয়া (৬৫), সুমন শেঠিয়া (৬০), রাশি (১২) এবং ছোটু শেঠিয়া (২২)। আহত সৌরভ (৩২), সুনিতা (৫৮) এবং সোমিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইন্দোরের কালেক্টর শিবম বর্মা জানিয়েছেন, তিলক নগর থানা এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮-১০ জন দমকল কর্মীর একটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পুলিশ কমিশনার সন্তোষ সিং বলেন , ভোর ৪টে নাগাদ আমরা তিলক নগরের কাছে ব্রিজেশ্বরী এনক্লেভ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। দমকল বাহিনীর সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দমকলের ইঞ্জিন ও জলের হোস পাইপ ব্যবহার করে আমরা একে একে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। ইন্দোরের পুলিশ কমিশনার সন্তোষ কুমার সিং আরও বলেন, তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৮ জন মারা গেছেন। আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ ও আর্থিক সহায়তা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লির পালামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। ইন্দোরে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনাতেও প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি উভয় ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেক নিকটাত্মীয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে দুই লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা করে এককালীন অনুদান ঘোষণা করেছেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর শোকপ্রকাশ ও ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তের নির্দেশ
দিল্লির পালামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। তিনি সামাজিক মাধমের এক্স পোস্টে লিখেছেন যে, পালামের একটি বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। জেলা প্রশাসন, দিল্লি দমকল বিভাগ এবং দিল্লি পুলিশ উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
দিল্লি ও ইন্দোর উভয় ক্ষেত্রেই আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়েছে। দমকল, পুলিশ ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি ঘটনাস্থলে তৎপর রয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য