
মথুরা, ২০ মার্চ (হি.স.): রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর তিন দিনের মথুরা প্রবাসের জন্য কানহার নগরীতে পৌঁছালেন। ক্যান্টনমেন্ট হেলিপ্যাডে নামার পর রাষ্ট্রপতি ব্রজের সুপ্রসিদ্ধ ইসকন এবং প্রেম মন্দির দর্শন করেন। এই সময় তাঁর সঙ্গে উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল এবং তাঁর পরিবারও উপস্থিত ছিল। শুক্রবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির হেলিকপ্টার সেনার হেলিপ্যাডে নামে। এখানে রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল, ক্যাবিনেট মন্ত্রী লক্ষ্মী নারায়ণ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী সন্দীপ সিং, সাংসদ তেজবীর সিং, মেয়র বিনোদ আগরওয়াল এবং জেলাশাসক চন্দ্র প্রকাশ সিং সহ বরিষ্ঠ প্রশাসনিক আধিকারিকরা তাঁকে ভব্য স্বাগত জানান। এরপর রাষ্ট্রপতির কনভয় সরাসরি বৃন্দাবনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রথমেই বৃন্দাবন স্থিত ইসকন মন্দিরে পৌঁছান। মন্দিরের ৫০তম স্বর্ণজয়ন্তী বর্ষের অবসরে তিনি রাধা-শ্যামসুন্দরের বিগ্রহের বিধি-বিধান মেনে পূজন ও আরতি করেন। মন্দিরের প্রেসিডেন্ট পঞ্চগৌড়া দাস জানান যে, রাষ্ট্রপতি মন্দিরের সাজ-সজ্জা এবং ভক্তিময় পরিবেশে অত্যন্ত প্রভাবিত হয়েছেন। পুজাের পর রাষ্ট্রপতি মন্দির চত্বরে শিশুদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চকোলেট উপহার দেন।
তিনি মন্দির আধিকারিকদের জানান যে, তিনি পুনরায় এখানে দর্শনের জন্য আসতে চাইবেন।
ইসকনের পর রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রেম মন্দিরে পৌঁছান, সেখানে অজয় বাবা এবং অন্যান্য পদাধিকারীরা তাঁকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি পরিবারের সঙ্গে মন্দিরে আয়োজিত বিশেষ 'ওয়াটার লেজার শো' উপভোগ করেন। এরপর তিনি গর্ভগৃহে শ্রী রাধা-কৃষ্ণের যুগল স্বরূপের আরতি করেন। এই সময় সংকীর্তন মণ্ডলীর ৫১ জন আশ্রমবাসীর সুমধুর গায়ন পরিবেশকে পুরোপুরি কৃষ্ণময় করে তোলে। রাষ্ট্রপতি মন্দির পরিক্রমা করেন । মন্দির ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে তাঁকে প্রসাদ, তুলসী মালা, দোপাট্টা এবং ধর্মীয় সাহিত্য প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে পুরো মথুরা-বৃন্দাবনে নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এডিজি অনুপম কুলশ্রেষ্ঠ এবং এসএসপি শ্লোক কুমার নিজে নিরাপত্তা ব্যবস্থার তদারকি করেন। রাষ্ট্রপতির এই সফর ব্রজের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্বকে বিশ্ব দরবারে এক নতুন উচ্চতা প্রদান করল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি