
নয়াদিল্লি, ২০ মার্চ (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক এবং পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানাল কেন্দ্র সরকার। একইসঙ্গে দেশজুড়ে রিফাইনারিগুলি পর্যাপ্ত কাঁচা তেলের ভাণ্ডার নিয়ে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছে।
জাতীয় মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, এলপিজি উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে এবং সরবরাহে কোনও ঘাটতির খবর নেই। ইতিমধ্যেই প্রায় ৭,৫০০ গ্রাহক এলপিজি থেকে পিএনজি-তে স্যুইচ করেছেন। বর্তমানে প্রায় ৯৩ শতাংশ বুকিং অনলাইনে হচ্ছে এবং ডেলিভারিও নিশ্চিত করা হয়েছে। গ্রাহকদের পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দেশের ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাণিজ্যিক এলপিজি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রে ১১,৩০০ টন এলপিজি সরবরাহ করা হয়েছে। কালোবাজারি রুখতে কন্ট্রোল রুম, জেলা কমিটি এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
নাগরিকদের উদ্দেশে কেন্দ্রের পরামর্শ, অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং না করে সরকারি তথ্যের ওপর ভরসা রেখে বাড়িতে সরবরাহের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
পেট্রোলের দামের বিষয়ে সুজাতা শর্মা জানান, সাধারণ পেট্রোলের দামে কোনও বৃদ্ধি হয়নি। শুধুমাত্র প্রিমিয়াম পেট্রোলের দামে সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে, যা মোট বিক্রির মাত্র ২-৪ শতাংশ।
এদিকে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওমান, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, জর্ডন এবং কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন ও শান্তির ওপর জোর দেন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত বজায় রাখার বিষয়েও সকল পক্ষ একমত হয়েছে।
তিনি জানান, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান রুট দিয়ে ২৮৪ জন তীর্থযাত্রী-সহ মোট ৯১৩ জন ভারতীয় নাগরিককে সরিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি কন্ট্রোল রুমে প্রাপ্ত ফোন ও ইমেলের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বন্দর, জাহাজরানি ও জলপথ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পারস্য উপসাগরে কর্মরত ২২টি ভারতীয় জাহাজ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক সুস্থ আছেন। ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমে প্রায় ১২৫টি কল এবং ২০০-র বেশি ইমেলের জবাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব শেষ করে ২৫ জন ভারতীয় নাবিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য