বিজেপি প্রার্থী হতেই সন্ন্যাসীকে বহিষ্কার করল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ
কলকাতা, ২১ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) টিকিটে প্রার্থী হওয়ায় এক সন্ন্যাসীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। সঙ্ঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা তাঁদের মূল আদর্শ ও নী
উৎপল মহারাজ


কলকাতা, ২১ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) টিকিটে প্রার্থী হওয়ায় এক সন্ন্যাসীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করল ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ। সঙ্ঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা তাঁদের মূল আদর্শ ও নীতির পরিপন্থী।

সঙ্ঘের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটির বৈঠকের পর একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, স্বামী জ্যোতির্ময়ানন্দ ওরফে উৎপল মহারাজকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও বৈরাগ্যের সেই পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, যা সঙ্ঘের সন্ন্যাসীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত।

ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক বিষয়ে কঠোরভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। সঙ্ঘের কোনো সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী বা সহযোগীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া বা সমর্থন করার অনুমতি দেওয়া হয় না। সংগঠনের মতে, রাজনীতি বা অন্য কোনও জাগতিক বিষয়ের প্রতি ঝোঁক আধ্যাত্মিক প্রতিশ্রুতিকে দুর্বল করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, উৎপল মহারাজ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, বিজেপির টিকিটে লড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই তিনি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সদর দফতরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। সঙ্ঘ কেবল তাঁর সেই ইস্তফা গ্রহণ নিশ্চিত করেছে। তিনি আরও বলেন, সঙ্ঘের সন্ন্যাসীরা যে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন না, সেই নিয়ম সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। তাই তিনি আগেই নিজেকে সংগঠন থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ একটি সামাজিক, ধর্মীয় ও জনহিতকর সংস্থা, যারা আধ্যাত্মিক জীবনে জাগতিক বিষয় থেকে দূরত্ব বজায় রাখাকেই তাদের আদর্শের প্রধান ভিত্তি বলে মনে করে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande