
গুয়াহাটি, ২১ মাৰ্চ (হি.স.) : আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনস্থ গৌরীপুরে লেভেল ক্রসিং গেট নম্বর সিএ-২৬-এর পরিবর্তে একটি ‘রোড ওভার ব্রিজ’ (আরওবি)-এর নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে। নবনিৰ্মিত আরওবিটি ওই অঞ্চলে রেল ও সড়ক পরিবকাঠামোর উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (নির্মাণ) কৰ্তৃক নির্মিত এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
আজ শনিবার গুয়াহাটিতে অবস্থিত উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এ খবর দিয়ে জানান, আরওবিটি গৌরীপুর ও আলমগঞ্জ স্টেশনের মধ্যে ১৬২/৫-৬ কিলোমিটারে নির্মাণ করা হয়েছে। এই কাঠামোর মোট দৈর্ঘ্য ৯৪০ মিটার এবং এটি ১:৪০-এর সর্বোচ্চ ঢাল করে ডিজাইন করা হয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে স্ট্যানডার্ড অনুসারে নির্মিত এই ব্রিজেতে ১০.৫০ মিটার প্রশস্ত একটি তিনটি লেনের যানচলাচল পথ রয়েছে, যা যানবাহনের সুগম ও দক্ষ চলাচল নিশ্চিত করে। কাঠামোটির একটি প্রধান বৈশিষ্ট হলো, এর ৬২-মিটার দৈর্ঘ্যের ‘বো-স্ট্রিং গার্ডার’ মূল স্প্যান, যা বলিষ্ঠ ইঞ্জিনিয়ারিং ও আধুনিক নির্মাণশৈলীর প্রতিফলন ঘটায়।
তিনি জানান, এই আরওবি ব্যস্ত লেভেল ক্রসিং গেট নম্বর সিও-২৬-এর স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে, যার ট্রেন ভেহিকল ইউনিট (টিভিইউ)-এর পরিমাণ ৬৯,৮৪০ ছিল। এর দ্বারা বোঝা যায়, এটি রেল ও সড়ক উভয় প্রকার যান চলাচলের প্রচণ্ড চাপের মধ্যে ছিল।
এই স্থানটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি গৌরীপুর ও ধুবড়ির মতো প্রধান শহরগুলিকে সংযুক্তকারী একটি স্টেট হাইওয়েতে অবস্থিত। ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরিহার্য সংযোগসূত্র হিসেবে কাজ করে।
আরওবি-র নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার ফলে বারবার গেট বন্ধ থাকার জন্য সৃষ্ট বিলম্ব সম্পূর্ণরূপে দূর হয়েছে। যার ফলে যানবাহন ও পথচারীদের বাধাহীন ও সুরক্ষিত চলাচল নিশ্চিত হয়েছে। ব্রিজটি দুর্ঘটনার সম্ভবনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে, ভ্রমণের সময় এবং জ্বালানি খরচ কমিয়ে আনবে। এছাড়া, এটি স্থানীয় বাণিজ্যকে উৎসাহিত করবে, যাতায়াত সুবিধা উন্নত করবে এবং এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আশা করছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
তিনি বলেন, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে সর্বদা পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ এবং যাত্রী ও সড়ক ব্যবহারকারী, উভয়েরই সুরক্ষা ও সুবিধা বৃদ্ধি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস