
নয়াদিল্লি, ২৪ মার্চ (হি. স.) : ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে দৃষ্টিভঙ্গির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে—এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা নীতির সচিব এলব্রিজ কোলবি। তাঁর মতে, এই মিলই দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কে আরও শক্ত ভিত গঠন করছে।
মঙ্গলবার দিল্লির অনন্ত সেন্টারের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কোলবি বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক বড় পরিবর্তনের সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল। এই প্রেক্ষাপটে ভারত ও আমেরিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতকে উদীয়মান বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশেষত ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। শুধু নিজের স্বার্থ রক্ষাই নয়, আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সক্ষম।
তিনি আরও জানান, আমেরিকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বাস্তববাদ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। আত্মনির্ভরতা ও নিজস্ব স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়—এমন অংশীদারকেই আমেরিকা গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ভারতের বিদেশনীতির প্রশংসা করে কোলবি বলেন, ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ এবং ‘ইন্ডিয়া ওয়ে’ ধারণা আমেরিকার ভাবনার সঙ্গে অনেকটাই সাযুজ্যপূর্ণ। দুই দেশই বাস্তববাদী কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য এবং জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত-আমেরিকার মধ্যে সামরিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। যৌথ সামরিক মহড়া, তথ্য আদান-প্রদান এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের সমন্বয় আরও জোরদার হয়েছে। ভবিষ্যতে সমুদ্র নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতেও সহযোগিতা বাড়বে বলে আশাবাদী তিনি।
তবে কিছু ইস্যুতে মতভেদ থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন কোলবি। কিন্তু পারস্পরিক সম্মান ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সেই মতভেদ কাটিয়ে সম্পর্ক আরও মজবুত করা সম্ভব বলেই তাঁর অভিমত।
শেষে তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য