বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: জোড়াসাঁকোতে তৃণমূলকে টক্কর দিতে প্রস্তুত বিজেপি
কলকাতা, ২৪ মার্চ (হি.স.): জোড়াসাঁকো একদিকে যেমন কলকাতার ঐতিহাসিক স্থান, তেমনই রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল| এই বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি আকর্ষণীয় মোড় নিয়েছে। টানা পাঁচ দফায় এখানে জিতে আসছে তৃণমূল| তাও এবার তারা কঠিন চ্
বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: জোড়াসাঁকোতে তৃণমূলকে টক্কর দিতে প্রস্তুত বিজেপি


কলকাতা, ২৪ মার্চ (হি.স.): জোড়াসাঁকো একদিকে যেমন কলকাতার ঐতিহাসিক স্থান, তেমনই রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল| এই বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি আকর্ষণীয় মোড় নিয়েছে। টানা পাঁচ দফায় এখানে জিতে আসছে তৃণমূল| তাও এবার তারা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ| তৃণমূল এবারে এখানকার বিদায়ী বিধায়ক বিবেক গুপ্তকে টিকিট না দিয়ে প্রার্থী করেছে বিজয় উপাধ্যায়কে। বিদায়ী বিধায়কের প্রতি স্থানীয়দের অসন্তোষের জন্যই শাসকদল এখানে নতুন প্রার্থী দিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

উল্লেখ্য, জোড়াসাঁকো আসনটি বরাবরই রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এটি একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল| এখান থেকে ১১ বার জিতেছিল কংগ্রেস। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন, তাঁর পরেই ধীরে ধীরে বদলে যায় সমীকরণ| ২০০১ সাল থেকে এই আসনটি তৃণমূলের দখলে। তবে, বেশিরভাগ নির্বাচনেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থী কম ব্যবধানে জিতেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিবেক গুপ্ত বিজেপির মীনা দেবী পুরোহিতকে ১২ হাজার ৭৪৩ ভোটে পরাজিত করেন। তবে, তারপর থেকেই এই নির্বাচনী ক্ষেত্রে বিধায়কের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরিকাঠামো, যানজট এবং বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় সেখানকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে থাকে। বিদায়ী বিধায়কের প্রতি স্থানীয়দের এই অসন্তোষের জন্যই শাসকদল এখানে নতুন প্রার্থী দিয়েছে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

বিজেপি বড় বাজার এলাকার সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিজয় ওঝাকে প্রার্থী করেছে। বলা হয়, অবাঙালি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর ভাল প্রভাব রয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বিজয় উপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং স্থানীয়ভাবে নিজের পরিচিতি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। এদিকে, সিপিআই(এম) প্রার্থী করেছে ভরত রাম তিওয়ারিকে, যিনি প্রবীণ বামপন্থী নেতা| পুরোনো ভোটব্যাঙ্ককে তিনি পুনরায় সক্রিয় চেষ্টা করছেন।

জোড়াসাঁকোর মধ্যেই রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম পাইকারি বাজার বড়বাজার। এখানে বিপুল সংখ্যক মারোয়াড়ি ও হিন্দিভাষী ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারও বসবাস করে। জনবিন্যাসের এই ধরণ এখানে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কঠিন লড়াইয়ে পরিণত করেছে। বিজেপি জোর দিচ্ছে অবাঙালি ভোটব্যাঙ্কের ওপর| সেখানে তৃণমূল বাঙালি ভোটার এবং পুরোনো ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে, বিগত লোকসভা নির্বাচনের তথ্য কিছুটা চিন্তায় রেখেছে তৃণমূলকে। গত তিনটি লোকসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূলের চেয়ে এগিয়ে ছিল বিজেপি।

এই আসনটি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয় ঐতিহ্যগতভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ| রবীন্দ্র সরণি, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ এবং কলেজ স্ট্রিটের মতো এলাকাগুলোর পাশে অবস্থিত হওয়ায় এই আসন ব্যবসা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেরও একটি অন্যতম কেন্দ্র। এছাড়াও, ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় জোড়াসাঁকোকে সাংস্কৃতিকভাবেও স্বতন্ত্র করে তুলেছে বাকি আসনগুলো থেকে। ২০২৬ সালের নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, জোড়াসাঁকোর লড়াই ততই মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই আসনটি তাদের আধিপত্য ধরে রাখার একটি পরীক্ষা; এদিকে, বিজেপির জন্য এটি কলকাতায় রাজনৈতিকভাবে বিস্তার লাভের একটি সুযোগ; এবং বাম দলগুলোর জন্য এটি তাদের হারানো সমর্থন ফিরে পাওয়ার একটি চ্যালেঞ্জ। তবে এই আসনে শেষ হাসি ফুটবে কোন রাজনৈতিক দলের, জানতে অপেক্ষা ৪ মে|

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande