
গুয়াহাটি (অসম), ২৪ মাৰ্চ (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২০ জোড়া নতুন ট্রেন পরিষেবা সূচনার মাধ্যমে যাত্রী সংযোগ, সুগমযাত্রা এবং পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণে প্রিমিয়াম, সেমি-প্রিমিয়াম এবং প্রচলিত ট্রেন পরিষেবার একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংমিশ্রণ রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে এবং দেশের অন্যান্য অংশের সাথে রেল যোগাযোগকে শক্তিশালী করা। এই পদক্ষেপটি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের নেটওয়ার্ক জুড়ে অ্যাক্সেস যোগ্যতা, যাত্রী সেবার মান এবং সামগ্রিক ভ্রমণ অভিজ্ঞতার উন্নয়নে তাদের অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
এক প্ৰেস বাৰ্তায় এ খবর দিয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, এই সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান বিশেষত্ব হলো বেশ কয়েকটি উন্নত ট্রেন পরিষেবার প্রবর্তন, বিশেষভাবে কামাখ্যা ও হাওড়ার মধ্যে পরিচালিত ‘বন্দেভারত স্লিপার এক্সপ্রেস’, যা উন্নত সুযোগ-সুবিধা সহ একটি আধুনিক ও দ্রুতবেগী রাত্রিকালীন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে। এছাড়া, সাশ্রয়ী অথচ আরামদায়ক দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সাত জোড়া ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’ ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়েছে, যা নাগেরকয়েল, তিরুচিরাপল্লি, গোমতিনগর, রোহতক, বেঙ্গালুরু, পানভেল এবং চারলাপল্লির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোকে সংযুক্ত করে। এই তালিকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো রাজধানী এক্সপ্রেস, যা সাইরাং-এর সাথে দিল্লির সংযোগ স্থাপন করে। এর ফলে মিজোরাম ও ন্যাশনাল ক্যাপিটালের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে উন্নত করেছে।
দীর্ঘ দূরত্বের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করতে, জলপাইগুড়িরোড ও শিয়ালদহের মধ্যে ‘হমসফর এক্সপ্রেস’ এবং ‘সাইরাং-কলকাতা-সাইরাংএক্সপ্রেস’-এর মতো পরিষেবাগুলি চালু করা হয়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে, সাইরাং-গুয়াহাটি-সাইরাংএক্সপ্রেস, শিলচর-সাইরাং-শিলচর এক্সপ্রেস, নিউজলপাইগুড়ি-গুয়াহাটি-নিউজলপাইগুড়ি এক্সপ্রেস, আগরতলা-নারেঙ্গি-আগরতলা এক্সপ্রেস ইত্যাদির মতো কয়েকটি ট্রেন আন্তঃ-আঞ্চলিক সংযোগ ব্যবস্থা মজবুত করছে। সামগ্রিকভাবে, নতুনভাবে চালুকৃত পরিষেবাগুলোর মধ্যে এই অঞ্চলের প্রধান রুটগুলোতে দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং দ্বি-সাপ্তাহিক ভিত্তিতে চলাচলকারী এক্সপ্রেস ও যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি সংমিশ্রণ রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক সংহতি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতিশীলতার ক্ষেত্রে এগুলো একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
তিনি জানান, এই সম্প্রসারণ উত্তরপূর্ব ভারত এবং এর সংলগ্ন অঞ্চলের শেষ প্রান্তের সাথে সংযোগ শক্তিশালীকরণ, পর্যটনের প্রসার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করার বিষয়ে ভারতীয় রেলেওয়ের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিচালিত পরিষেবাগুলোর মাধ্যমে, এই নতুন ট্রেনগুলো আঞ্চলিক একত্রীকরণ ও চলাচলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পরিকাঠামো ও সেবার মান ক্রমাগত উন্নত করার পাশাপাশি সুগম, দক্ষ এবং যাত্রী-কেন্দ্রিক রেল সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, প্রেস বার্তায় বলেছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস