
হাফলং (অসম), ২৬ মাৰ্চ (হি.স.) : ষষ্ঠ তফশিলিভুক্ত অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে অবিরত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা। উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসার উদ্দেশে লেখা এক পত্রে এই আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দেবোলাল গার্লোসার উদ্দেশে লেখা পত্রে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘বিভিন্ন ডিমাসা সংগঠনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল আমার। তাঁরা ইউকেডিএ, কেআরএ এবং কেএলও/কেএলএ সহ কুকি সংগঠনগুলির সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওএস) নিয়ে তাঁদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রস্তাবিত ১২৫-তম সংবিধান সংশোধনের আওতায় উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদে কুকি প্রতিনিধিত্ব দুই থেকে বাড়িয়ে চার আসন করার প্রস্তাব সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তাঁরা বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।’
‘এ প্রসঙ্গে, আমি আপনাকে এবং ডিমাসা সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই অঞ্চলগুলিতে ডিমাসা সম্প্রদায় এবং অন্যান্য সকল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক অধিকার, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কঠোরভাবে সম্মানিত ও সুরক্ষিত করা হবে এবং এই নিরাপত্তার ভিত্তির ওপরই কুকি সম্প্রদায়ের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যখন একসাথে এগিয়ে যাব, তখন ডিমাসা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য এবং এর সাংবিধানিক অবস্থান রক্ষা করা একটি সর্বোচ্চ অঙ্গীকার হিসেবেই থাকবে। এই সম্প্রীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার একটি ব্যাপক আলোচনা প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা নিশ্চিত করে, ডিমা হাসাও বা কার্বি আংলং জেলার এখতিয়ারভুক্ত ভূমি বা জনতাত্ত্বিক স্বার্থকে প্রভাবিত করে এমন কোনও নিষ্পত্তির বিধান ডিমাসা ও কার্বি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, সেই সাথে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ এবং কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদের সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ছাড়া চূড়ান্ত করা হবে না।’
‘প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে, যদিও এই সমঝোতায় কার্বি-আংলং স্বশাসিত পরিষদে অন্তত দুটি আসন এবং উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদে চারটি নতুন নির্বাচনী এলাকা তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, ১২৫-তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর এবং সংশ্লিষ্ট স্বশাসিত পরিষদগুলোর সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই কেবল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অধিকন্তু, এ ধরনের যে কোনও আসন বৃদ্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট পরিষদগুলোতে মোট আসনের সংখ্যাও আনুপাতিকভাবে বাড়ানো হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো, কার্বি এবং ডিমাসা সম্প্রদায়ের আপেক্ষিক আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কঠোরভাবে অপরিবর্তিত রাখা। সাংবিধানিক সংশোধনী বিলটি পাস হলে ডিমাসা সম্প্রদায় আসন এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে অনেক বেশি লাভবান হবে।’
‘পরিশেষে, গুয়াহাটিতে সদর দফতর সহ নব-প্রস্তাবিত কুকি কল্যাণ ও উন্নয়ন পরিষদ (কেডব্লিউডিসি) এবং মার কল্যাণ ও উন্নয়ন পরিষদ (এইচডব্লিউডিসি)-এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, অসম জুড়ে ওই সম্প্রদায়ের সদস্যদের লক্ষ্যভিত্তিক আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের একটি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করা। পার্বত্য অঞ্চলে এই কল্যাণ ও উন্নয়ন পরিষদগুলো তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করবে, যাতে সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলে বর্ণিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁরা নিজ নিজ জেলার সমস্ত বিষয়ে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ এবং কার্বি আংলং স্বশাসিত পরিষদের সার্বিক কর্তৃত্বের অধীনে কাজ করতে পারে।’
‘এছাড়া, এই পরিষদগুলোর গঠন ও কার্যকারিতা অসমের ষষ্ঠ তফশিলভুক্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যমান স্বশাসিত পরিষদগুলোর ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে কোনওভাবেই লঙ্ঘন করবে না। আমাদের ষষ্ঠ তফশিলিভুক্ত এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ পত্রে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব