লামডিং ডিভিশনের একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন এনএফ রেলের জিএম চেতনকুমারের
গুয়াহাটি, ২৬ মাৰ্চ (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব লামডিং ডিভিশনের অধীন বিভিন্ন সেকশনে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং যাত্রী সুবিধাবলির পর্যালোচনা করেছেন। পরিদর্শনের সময় জেনারেল ম্যানেজারের সাথ
উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনা এনএফ রেলের জিএম চেতনকুমারের


গুয়াহাটি, ২৬ মাৰ্চ (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব লামডিং ডিভিশনের অধীন বিভিন্ন সেকশনে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং যাত্রী সুবিধাবলির পর্যালোচনা করেছেন। পরিদর্শনের সময় জেনারেল ম্যানেজারের সাথে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের সদর কার্যালয়ের বরিষ্ঠ আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষও ছিলেন। পরিদর্শনকালে চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাতে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিচালন অগ্রাধিকারসমূহের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোর অবিচল অগ্রগতি নিশ্চিত থাকে।

আজ বৃহস্পতিবার এ খবর দিয়ে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, গত মঙ্গলবার পরিদর্শন কার্যসূচি কামাখ্যা থেকে শুরু হয়ে লামডিং, ডিফু ও বড়পথার সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হয়েছ। লামডিঙে জেনারেল ম্যানেজার রিলিফ ইয়ার্ডে প্রস্তাবিত ‘লোকোমিড-লাইফ রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্ট’-এর পর্যালোচনা করেন। এর লক্ষ্য, লোকোমোটিভের দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনগত স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা। বোকাজান ও বড়পথারের মধ্যে ৩১.৩ কিলোমিটার রুটে সফল গতি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এতে সমস্ত সুরক্ষা বিধি মেনে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। এটি সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রেক স্ট্যান্ডার্ড এবং নিরাপদ ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অব্যাহত মনোযোগের প্রতিফলন।

কপিঞ্জল শর্মা জানান, পরিদর্শনকালে ডিফুতে যাত্রী-কেন্দ্রিক ও নিরাপত্তা বৃদ্ধিমূলক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিফু-দলদলি সেকশনের মধ্যে ‘ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ডাবল সেকশন’ ব্যবস্থা, যা ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে পরিচালনগত সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে মজবুত করেছে। স্টেশনের সুরক্ষা ও যাত্রীদের আস্থা আরও মজবুত করার লক্ষ্যে সিসিটিভির নজরদারি ব্যবস্থাও পর্যালোচনা করা হয়েছে। এছাড়া, লেভেল ক্রসিং গেট নম্বর এসটি-৫৮-এর পরিবর্তে নবনির্মিত একটি ‘রোড আন্ডার ব্রিজ’ (আরইউবি) পরিদর্শন করেছেন জেনারেল ম্যানেজার। এটি সুরক্ষা বৃদ্ধি, রোড ও রেল সংযোগ নিশ্চিতকরণ এবং যানজট হ্রাসের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত। বড়পথার স্টেশনে জেনারেল ম্যানেজার বিস্তারিতভাবে পরিদর্শন করেন এবং লেভেল ক্রসিং গেটে ডেটা ও ভয়েস রেকর্ডিং সিস্টেম সহ আধুনিক প্রযুক্তির প্রদর্শনীও পর্যবেক্ষণ করেছেন। সুরক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণের মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পয়েন্টস ও ক্রসিং, লং ওয়েল্ডেড রেল এবং সুইচ এক্সপ্যানশন জয়েন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্র্যাক উপাদানগুলোও পরিদর্শন করা হয়েছে। তিনি ফিল্ড স্টাফদের সাথেও মত বিনিময় করে তাঁদের নিষ্ঠার প্রশংসা করার পাশাপাশি সুরক্ষা, দক্ষতা ও দলগত কাজের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল সম্পদসমূহও অন্তর্ভুক্তছিল। এর মধ্যে মাইনর ব্রিজ নম্বর ৩৩১-এর মতো মেজর ব্রিজ অন্যতম। মানববিহীন ক্রসিংগুলোতে প্রি-ওয়ার্নিং মেকানিজম এবং ট্রলিতে স্থাপিত অভিনব গ্রিজিং ব্যবস্থার মতো উন্নত সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনা করেছেন জেনারেল ম্যানেজার। এগুলো আধুনিক রক্ষণাবেক্ষণ পদ্ধতি এবং প্রযুক্তি-নির্ভর সমাধানের প্রতি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বিশেষ গুরুত্বারোপকেই প্রতিফলিত করে। পরিদর্শন কার্যক্রম জামুগুড়িতে পর্যালোচনার মাধ্যমে আরও অগ্রসর হয়। লামডিং ডিভিশনের অধীনস্থ চলমান প্রকল্পগুলোও পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এই ব্যাপক পরিদর্শন আধুনিকীকরণ, উন্নত সুরক্ষামান এবং যাত্রীদের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট অভিজ্ঞতার প্রতি উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে যে সর্বদা অবিচল, সেই অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে। ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সক্রিয় পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এই সমগ্র অঞ্চলে দক্ষ, নির্ভরযোগ্য এবং যাত্রী-বান্ধব রেল পরিষেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, বলেছেন এনএফ রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande