
আগরতলা, ২৬ মার্চ (হি.স.) : শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও নির্যাতন থেকে সুরক্ষার অভাব তাদের মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে—এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই উঠে এল বৃহস্পতিবার রাজধানী আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত কর্মশালায়। জাতীয় শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় ত্রিপুরা সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা শিশুদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে একাধিক দিক নির্দেশনা তুলে ধরেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের দেশের ভবিষ্যৎ এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি। তাই তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, বরং নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের মধ্যে যেন কোনও ধরনের ভয় বা মানসিক চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সকল স্তরে সচেতনতা প্রয়োজন।
আধিকারিকদের মতে, শিশুদের প্রধান সমস্যাগুলির মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তার অভাব, মানসম্মত শিক্ষার ঘাটতি এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন থেকে সুরক্ষার অভাব। এই তিনটি বিষয় শিশুদের বিকাশে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। তাই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী থেকে শুরু করে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই বিষয়ে বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিশুদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ এবং তাদের সমস্যাগুলি বোঝার উপর জোর দেন বক্তারা।
তাঁরা আরও জানান, বিশ্বজুড়ে এখনও বহু শিশু শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতন, বাল্যবিবাহ এবং শিশু শ্রমের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো প্রয়োজন।
এই কর্মশালায় প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিআইজি সঞ্জয় রায় এবং রাজ্য শিশু সুরক্ষা অধিকার কমিশনের সদস্যা চামেলী সাহা সহ অন্যান্যরা।
কর্মশালার মাধ্যমে শিশু অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন দফতরের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ