
দুর্গাপুর, ২৭ মার্চ (হি.স.): নির্বাচনের ব্যস্ততার মাঝেই পানাগড়ে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ উঠেছে। নির্বিচারে পুকুর ও জলাজমি ভরাট করে প্রোমোটারি চলার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রতিবাদে সরব হয়েছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
অভিযোগ, কাঁকসা ব্লকের প্রয়াগপুর মৌজায় পানাগড়ের ১০৪ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন একটি বড় পুকুরে গত কয়েকদিন ধরে মাটি ও ছাই ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই সেই জমি প্লট করে বিক্রির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। পুকুরপাড়ের গাছ কাটার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই পুকুরের জলেই আশপাশের জমিতে চাষ হত এবং মাছ চাষও চলত। পুকুর ভরাট হয়ে গেলে সেচের জলের সঙ্কট তৈরি হবে। ফলে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, পুকুর ভরাট করতে হলে ভূমি রাজস্ব দফতর ও মৎস্য দফতরের অনুমতি প্রয়োজন। ১৯৫৫ সালের ভূমি সংস্কার আইন অনুযায়ী এই ধরনের ভরাট শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবুও নিয়ম উপেক্ষা করে কাজ চলছে বলে অভিযোগ।
বিজেপির অভিযোগ, শাসকদলের মদতেই এই বেআইনি প্রোমোটারি চলছে। বিজেপি নেতা রমন শর্মা বলেন, “পুকুর ভরাটের ফলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর কমে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষই এর খেসারত দিচ্ছেন।”
সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-ও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “কয়লা-বালির পর এখন জলাশয় ভরাট করে প্রোমোটারি চলছে। এতে গোটা সমাজ জলসঙ্কটে পড়বে।”
অন্যদিকে কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুকুর ভরাট কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও বিএলআরও দফতরের দাবি, এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা