
গুয়াহাটি, ২৭ মাৰ্চ (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ২০২৫-২৬ অৰ্থবৰ্ষে সমস্ত নেটওয়ার্ক জুড়ে ৩৫টি ট্রেনের গতিবেগ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পরিচালন দক্ষতা ও যাত্রী সেবার সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে যাতায়াতের সময়ে মোট ৬৭৫ মিনিট সাশ্রয় হয়েছে, যেখানে প্রতি ট্রেনে গড়ে প্রায় ১৯.২৯ মিনিট সময় কমেছে। এই গতিবেগ বৃদ্ধির পদক্ষেপটি দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং দ্বি-সাপ্তাহিক ট্রেন পরিষেবাগুলোর একটি মিশ্রণে অন্তর্ভুক্ত, যা গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলোকে সংযুক্ত করায় বিভিন্ন শ্রেণির যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সুবিধা নিশ্চিত হয়।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এক প্ৰেস বাৰ্তায় এ তথ্য দিয়ে জানান, গুরুত্বপূর্ণ উন্নতিগুলোর মধ্যে নিউজলপাইগুড়ি-বঙাইগাঁও এক্সপ্রেস, হাওড়া-গুয়াহাটি শরাইঘাট এক্সপ্রেস এবং ডিব্রুগড়-দেওঘর এক্সপ্রেস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলো সহ আরও বেশ কয়েকটি ট্রেনে সময়ের উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হয়েছে। এক্ষেত্রে যথাক্রমে ৬০ মিনিট, ৩০ মিনিট এবং ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় কমেছে। ইন্টারসিটি, মেইল/এক্সপ্রেস এবং যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সময় যানজটের সম্মুখীন হওয়া আরও বেশ কিছু রুটকেও উন্নত সেকশনাল গতিবেগ, উন্নত সময়সূচি এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে অপ্টিমাইজ করা হয়েছে।
এই উন্নয়নগুলো ট্রেন পরিচালনার আধুনিকীকরণ এবং নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের নিরবচ্ছিন্ন অঙ্গীকারকেই প্রতিফলিত করে।
ট্রেন চলাচলের গতিবেগ বৃদ্ধির ফলে রেলওয়ে এবং যাত্রীদের জন্য একাধিক সুবিধা নিয়ে আসে যাত্রীদের জন্য ভ্রমণের সময় হ্রাস পাওয়ার ফলে অধিকতম সুবিধা, উন্নত ভ্রমণ অভিজ্ঞতা এবং উন্নত সংযোগ ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। দ্রুততম পরিষেবাগুলো নির্ভরযোগ্যতা ও সময়ানুবর্তিতাও বৃদ্ধি করে, যা রেলওয়ে পরিবহণকে অন্যান্য পরিবহণ মাধ্যমের তুলনায় আরও আকর্ষণীয় একটি বিকল্প হিসেবে পরিণত করে। এছাড়া রেলওয়ের ক্ষেত্রে গতিবেগের সর্বোত্তম ব্যবহার রোলিং স্টক ও ট্র্যাক ক্ষমতার অধিকতর সদ্ব্যবহার, ট্রেনের টার্ন অ্যারাউন্ড সময়ের হ্রাস এবং সামগ্রিক পরিচালন দক্ষতার নিশ্চয়তা প্রদান করে। এছাড়া, সময় সাশ্রয়ের মাধ্যমে শক্তি দক্ষতা ও ব্যয় অপ্টিমাইজেশনে সহায় করে। পাশাপাশি, এটি একই পরিকাঠামোর অধীনে অতিরিক্ত পরিষেবা চালু করার সুযোগ তৈরি করে।
এই পদক্ষেপ এই অঞ্চলের জণগণের জন্য দ্রুততম, সুরক্ষামূলক ও অধিকতম কার্যকর রেল পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের বৃহত্তর পরিকল্পনার একটি অংশ। ট্রেনের কর্মক্ষমতা আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, পরিচালন ব্যবস্থা কার্যক্রম সহজ করা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন গ্রহণের জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে যাত্রীদের উন্নত পরিষেবা প্রদান এবং একটি উৎকৃষ্ট ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, প্ৰেস বাৰ্তায় বলেছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস