
আগরতলা, ২৮ মার্চ (হি.স.): ত্রিপুরার দ্বিতীয় রেফারেল হাসপাতাল আইজিএম-এ এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং রোগী-পরিজনদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত একটি শিশুকে নিয়ে তাঁর মা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য আসেন। নির্ধারিত নিয়ম মেনে কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করে তিনি ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক দেবেশ দেববর্মা এবং আরও এক মহিলা চিকিৎসক।
রোগীর মায়ের অভিযোগ, চিকিৎসক দেবেশ দেববর্মা তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত রূঢ় ও অমার্জিত আচরণ করেন। চিকিৎসকের এই ব্যবহারে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান, চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে এমন অপমানজনক আচরণের শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
ঘটনার সময় উপস্থিত অপর এক মহিলা প্রতিবাদ জানালে, তাঁর সঙ্গেও চিকিৎসক একই ধরনের অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলার দাবি, চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, সরকারি হাসপাতালকে মানুষ ভরসার স্থান হিসেবে দেখে এবং চিকিৎসকদের জীবন্ত ভগবান বলে মনে করে। সেই জায়গায় যদি রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থাকে নষ্ট করে।
উল্লেখ্য, রাজ্যকে একটি উন্নত মেডিকেল হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য দফতর বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা নিজেও স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীদের সঙ্গে ভদ্র ও মানবিক আচরণ করার জন্য বারবার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর এই আহ্বানে অধিকাংশ স্বাস্থ্যকর্মী ইতিবাচক ভূমিকা পালন করলেও, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কারণে পুরো ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের সক্রিয় হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ