
কলকাতা, ২৮ মার্চ (হি.স.): তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রদবদল। কুলপি ও রায়দিঘি—এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হলো বিদায়ী বিধায়কদের। নির্বাচন কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে কুলপির প্রাক্তন বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার এবং রায়দিঘির প্রাক্তন বিধায়ক ডা. অলোক জলদাতাকে।শনিবার বিকেলে মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কুলপির বিবেক ময়দানে দলীয় প্রার্থী বর্ণালী ধাড়ার সমর্থনে সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, টিকিট না পেলেও অভিজ্ঞ নেতাদের সংগঠনে বড় দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং তাঁদের নেতৃত্বেই ভোটের লড়াই এগোবে। সেই ঘোষণার পরেই প্রকাশিত নির্বাচন কমিটির তালিকায় এই দুই বিদায়ী বিধায়কের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।উল্লেখ্য, কুলপি কেন্দ্রের চারবারের বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদারকে এবার প্রার্থী করেনি দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে পরিচিত এই নেতা টিকিট না পেয়ে কিছুটা আড়ালে চলে গিয়েছিলেন, যার প্রভাব পড়েছিল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও। তবে অভিষেকের সভা থেকে তাঁর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। কুলপির নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সাংসদ বাপী হালদারকে এবং যোগরঞ্জন হালদার থাকছেন ভাইস চেয়ারম্যান পদে।অন্যদিকে, রায়দিঘি কেন্দ্রেও একই ছবি ধরা পড়েছে। ২০২১ সালের বিধায়ক ডা. অলোক জলদাতাকে এবার প্রার্থী না করে নতুন মুখ তাপস মণ্ডলকে সামনে এনেছে দল। এতেও কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে নির্বাচন কমিটিতে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি পুনরায় সক্রিয় হবেন বলে আশা করছে দলের একাংশ।যদিও অভিষেকের ঘোষণার পর যোগরঞ্জন হালদারের প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা আক্ষেপের সুর শোনা গিয়েছে। তিনি বলেন, “ভোটের আগে বলতে হয়, তাই বলেছেন। কেন আমাকে প্রার্থী করা হল না জানি না। তবে দল দায়িত্ব দিলে কাজ করব, না হলে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াব।” এখন দেখার, এই নতুন সাংগঠনিক সমীকরণ কুলপি ও রায়দিঘির ভোটের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত