
আগরতলা, ৩১ মার্চ (হি.স.): রাজধানী আগরতলায় মহারাজগঞ্জ বাজারের লালমাটিয়া বিপনী বিতানে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ। মাত্র আট দিনের মধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে ঘটনার কিনারা করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম লিটন সাহা। সে প্রাথমিক জেরায় স্বীকার করেছে, মদ্যপ অবস্থায় বচসার জেরে কোদাল দিয়ে আঘাত করেই নির্মাণ শ্রমিক কৃষ্ণ ভট্টাচার্যকে খুন করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত কৃষ্ণ ভট্টাচার্য ও অভিযুক্ত লিটন সাহা—উভয়েই ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন এবং নিয়মিতভাবে লালমাটিয়া বিপনী বিতানেই রাত কাটাতেন। দিনে তারা জোগালি মিস্ত্রীর কাজ করতেন। খুনের ঘটনার তদন্তে পূর্ব আগরতলা থানার পুলিশ প্রথমেই বিপনী বিতানে কারা কারা রাত যাপন করত, তার একটি তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকায় লিটন সাহার নাম উঠে আসে।
পূর্ব আগরতলা থানার ওসি সুব্রত দেবনাথ জানান, তদন্ত চলাকালীন লিটনের চোখে একটি আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারীরা। এই আঘাতের সূত্র ধরেই তাঁকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং গত ২৭ মার্চ তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদে লিটন দাবি করে যে সে কৃষ্ণ ভট্টাচার্যকে চিনত না। তবে ধারাবাহিক জেরার মুখে সে ভেঙে পড়ে এবং খুনের ঘটনা স্বীকার করে।
পুলিশের জেরায় জানা যায়, গত ২২ মার্চ রাতে লিটন ও কৃষ্ণ একসঙ্গে বিপনী বিতানে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় কোনও একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। হাতাহাতির সময় লিটনের চোখে আঘাত লাগে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লিটন তাঁদের সঙ্গে থাকা কাজের কোদালের পেছনের দিক দিয়ে কৃষ্ণের মাথায় জোরে আঘাত করে। গুরুতরভাবে আহত কৃষ্ণ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সোমবার পুলিশ ধৃত লিটন সাহাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করায়। সেখানে সে কীভাবে খুনের ঘটনা ঘটায়, তা অভিনয় করে দেখায়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। মঙ্গলবার তাকে পুনরায় আদালতে তোলা হয় এবং দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।
উল্লেখ্য, লালমাটিয়া বিপনী বিতানে মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ব্যবসায়ী মহলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিনই ব্যবসায়ীরা সাংবাদিক সম্মেলন করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে এলাকায়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ