
কলকাতা, ৩১ মার্চ (হি.স.): আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বৃদ্ধি পেল। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একগুচ্ছ অভিযোগ জমা দিল রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন বিকেলে বিধাননগরের সল্টলেকে নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কমিশনের অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই সংক্রান্ত দুটি ভিডিও প্রমাণও তাঁরা কমিশনের কাছে জমা দিয়েছেন বলে জানান।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, একটি ভিডিওতে মুখ্যমন্ত্রীকে মহিলাদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি উসকানি দিতে দেখা যাচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের মন্তব্য কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় না, বরং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, একজন দায়িত্বশীল পদে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের প্ররোচনামূলক মন্তব্য গুরুতর অপরাধের শামিল এবং অন্য রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রে কমিশন যে ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখানেও সেই একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনের ঊর্ধ্বে নন। এর পাশাপাশি নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, সিইও-র একাধিক নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিচুতলায় তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রীর যাতায়াতের জন্য রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়েও এদিন সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপার মেহদি হাসান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ ঢালির ভূমিকা নিয়ে বিশেষ আপত্তি জানানো হয়েছে। বিজেপির দাবি, বদলির নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এখনও প্রশাসনিক কাজে প্রভাব খাটাচ্ছেন। এছাড়াও অভিযোগ করা হয়েছে যে, রাজ্য গোয়েন্দা শাখাকে ব্যবহার করে বিজেপি কর্মীদের ফোন ও অবস্থানের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিজেপি প্রার্থীদের বারবার সিআইডি-র তলব নিয়ে এদিন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
তাঁদের দাবি, ‘ফর্ম-৭’ জমা দেওয়া সত্ত্বেও বহু ভুয়ো নাম এখনও তালিকায় রয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কমিশনের কাছে জমা দিয়ে দ্রুত সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত