
বিষ্ণুপুর, ৩১ মার্চ (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের মঞ্চ থেকে মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বাংলা বিদ্বেষী’ মন্তব্য থেকে শুরু করে ‘খেলা হবে’ হুঙ্কার—সব মিলিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে জনসভা।
সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি বাংলা বিদ্বেষী, বাংলাকে ঘৃণা করে, হিংসা করে। আর আমি বাংলাকে বিশ্বসেরা করতে চাই।” একইসঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন, “দিল্লির লাড্ডু খেয়ে ভাবছে ক্ষমতায় চলে এসেছে। যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে ভোটাধিকার কাড়বেন না।”
এসআইআর ইস্যুতে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। “কি অপরাধ ছিল তাদের?”—এই প্রশ্ন তুলে তিনি বিজেপিকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “সবাইকে কিনে নিতে পেরেছে, কিন্তু আমাকে পারেনি। রাজ্যের প্রাপ্য জিএসটির টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র, তবুও একটি প্রকল্পও বন্ধ হয়নি।”
একইসঙ্গে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “বিজেপি দেশকে ভাগ করতে চায়, হিন্দু রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করছে।”
এদিনের সভা থেকেই জোরালো সুরে ‘খেলা হবে’ স্লোগান তোলেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, “বিপক্ষ যত খুশি রণনীতি তৈরি করুক না কেন, নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত। এই নির্বাচনেও ‘খেলা হবে’ এবং সেই খেলা হবে অত্যন্ত জোরদার।”
বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় তিনি দাবি করেন, তাঁর সরকারের আমলে রাজ্যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং মানুষ ব্যালট বক্সেই তার জবাব দেবে। “বাংলায় বর্তমানে ১০৫টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চলছে, যার অনেকগুলোই অন্য কোনও রাজ্যে নেই,” বলেন তিনি।
এদিন ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এটি কোনও ভাতা নয়, বরং যুব সমাজকে স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ।
ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আরও বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, “প্রথমে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, পরে ৪২ লক্ষের মধ্যে মাত্র ২২ লক্ষ নাম ফের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।” এই ইস্যুতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানান।
এছাড়া বিষ্ণুপুর ও বাঁকুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, মন্দির সংরক্ষণে ২২ কোটি টাকা, মিউজিয়ামের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়, স্বাস্থ্য জেলা ঘোষণা, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, পানীয় জল প্রকল্পসহ একাধিক কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিষ্ণুপুর একদিকে মন্দির নগরী, অন্যদিকে সংগীতের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এলাকা।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মানুষই সব থেকে বড়। অহঙ্কার নয়, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।”
উল্লেখ্য, বিষ্ণুপুরের আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা ও গড়বেতাতেও জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং প্রতিটি সভা থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট