আবিরে মুছে গেল ভেদাভেদ, হোলির আনন্দে মাতোয়ারা কুমারঘাট
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ৪ মার্চ (হি.স.) : বসন্তের আবাহনে রঙের ছোঁয়ায় মুখরিত হয়ে উঠল কুমারঘাট। সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার এই মহকুমাতেও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হল হোলি উৎসব। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকায় দেখা যায় আবিরে রাঙ
হোলির আনন্দে মাতোয়ারা কুমারঘাট


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ৪ মার্চ (হি.স.) : বসন্তের আবাহনে রঙের ছোঁয়ায় মুখরিত হয়ে উঠল কুমারঘাট। সারা দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার এই মহকুমাতেও বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হল হোলি উৎসব। সকাল থেকেই শহর ও আশপাশের এলাকায় দেখা যায় আবিরে রাঙা যুবক-যুবতীদের উচ্ছ্বাস। হাতে পিচকারি, মুখে হাসি—চারদিকে উৎসবের আমেজে মেতে ওঠেন আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষ।

হোলি উপলক্ষ্যে রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লা এবং বিভিন্ন ক্লাব প্রাঙ্গণে জমে ওঠে রঙের খেলায় আনন্দঘন পরিবেশ। কুমারঘাটের রাহুল দত্ত নামে এক যুবক জানান, বছরে একবারই আসে এই বিশেষ দিন। তাই বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে রঙ খেলায় মেতে ওঠেন তাঁরা। ছোটদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং বড়দের আবির দিয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়াই এই দিনের প্রধান আকর্ষণ বলে জানান তিনি।

রঙের উল্লাসে সামিল সঞ্জয় রায় ও রাজেশ পালও বলেন, সকাল থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে দিনভর উৎসব উপভোগ করছেন তাঁরা। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর অংশগ্রহণ কিছুটা কম বলে মত প্রকাশ করেন তাঁরা।

এদিকে সরকারিভাবেও মহকুমা ভিত্তিক দোল উৎসব উদযাপিত হয়। তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে কুমারঘাটের লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দিরের হলঘরে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঊনকোটি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সন্তোষ ধর। উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিক সুভাশিষ সেনগুপ্ত, মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি দেবদাস চৌধুরী, কুমারঘাট পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন বিশ্বজিৎ দাসসহ অন্যান্যরা।

অনুষ্ঠানে দোল উৎসবের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভার পাশাপাশি পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বক্তব্য রাখতে গিয়ে সহকারী সভাধিপতি সন্তোষ ধর বলেন, দোল উৎসব অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জয়ের প্রতীক। দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতে এই ধরনের উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। আবিরের রঙে যখন সবার মুখ রাঙে, তখন মিলিয়ে যায় ছোট-বড় বা গোষ্ঠীগত বিভেদ।

সব মিলিয়ে দোল ও হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে এদিন রঙের আনন্দে মেতে ওঠে গোটা কুমারঘাট মহকুমা। স্থানীয়দের দাবি, বসন্তের এই রঙিন উৎসব আরও একবার প্রমাণ করল—ভালোবাসা ও সম্প্রীতির রঙই সবচেয়ে গাঢ়।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande